ইসলামে সকালের সময়টিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে গণ্য করা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী ইশার নামাজের পর দ্রুত ঘুমিয়ে পড়া এবং সাতসকালে ঘুম থেকে ওঠা একজন প্রকৃত মুসলমানের বৈশিষ্ট্য। যারা দিনের শুরু ফজরের নামাজের মাধ্যমে করেন, তারা প্রকৃত মুমিন হিসেবে গণ্য হন। অথচ মুনাফিকরা কখনোই ফজরের নামাজে শামিল হয় না। এ প্রসঙ্গে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত বোখারি শরিফের ৬২৪ নম্বর হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মুনাফিকদের ওপর ফজর ও ইশার নামাজের চেয়ে অধিক ভারী নামাজ আর নেই। তারা যদি এই দুই নামাজের ফজিলত সম্পর্কে জানত, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তারা জামাতে উপস্থিত হতো।
ফজরের নামাজের পর মুসলমানগণ আপন কাজে ছড়িয়ে পড়লে জীবনে রহমত ও বরকত নেমে আসে। অল্প সময়ের মধ্যেই মানুষ পর্যাপ্ত রিজিক লাভ করে। সকালে ঘুম থেকে ওঠা কেবল ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, বরং শারীরিক ও মানসিকভাবেও অত্যন্ত উপকারী। রাসুলুল্লাহ (সা.) সকালের বরকতের জন্য দোয়া করেছেন। সাখর গামিদী (রা.) থেকে বর্ণিত তিরমিজি শরিফের ১২১২ নম্বর হাদিসে উল্লেখ আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) দোয়া করতেন, 'হে আল্লাহ, তুমি আমার উম্মতের জন্য ভোরের মধ্যে বরকত দান করো।' বর্ণনাকারী জানান, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন কোনো ক্ষুদ্র সেনাদল বা বৃহৎ সৈন্যবাহিনী পাঠাতেন, তখন তাদেরকে দিনের প্রথমাংশে পাঠাতেন। ব্যবসায়ী সাখর গামিদীও তার ব্যবসায়িক দলকে দিনের শুরুতেই পাঠিয়ে দিতেন, যার ফলে তিনি ধনবান হন এবং তার সম্পদ প্রচুর বৃদ্ধি পায়।
সকালবেলা যারা ঘুম থেকে ওঠে না, তাদের শরীরে বিভিন্ন অসুস্থতা লেগে থাকে এবং শরীরের সজীবতা নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে পরবর্তী সময়ের কাজগুলো দক্ষতার সঙ্গে করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং মানুষ রিজিক থেকে বঞ্চিত হয়। তাই ওই সময়ে ঘুমের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। আলি (রা.) বলেন, একদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) সকালবেলা ফাতেমা (রা.)-এর কাছে গেলেন। তখন ফাতেমা প্রভাত-নিদ্রায় শায়িত ছিল। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে পা দিয়ে খোঁচা দিয়ে বললেন, হে কন্যা, ওঠো, তোমার প্রভুর রিজিক বণ্টনের সময় তুমি উপস্থিত থাক। আর গাফিলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। মূলত মহান আল্লাহ সুবহে সাদিক থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত সময়ের মধ্যে মানুষের রিজিক বণ্টন করে থাকেন।
মহান আল্লাহ সুবহে সাদিক থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত সময়ের মধ্যে মানুষের রিজিক বণ্টন করে থাকেন।’ (আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব : ২৬২৭)।

