যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ফুটবল বিশ্বকাপের কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরে আসছেন। রবিবার স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচে তিনি উপস্থিত থাকবেন এবং বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন। গত বছর ক্লাব বিশ্বকাপে যেভাবে তিনি ট্রফি প্রদান করেছিলেন, এবারও একই ভূমিকা পালন করবেন তিনি। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, নিউ ইয়র্ক/নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে ফাইনাল চলাকালীন ট্রাম্প তাঁর পাশেই বসে খেলা দেখবেন।
এর আগে শুক্রবার ম্যানহাটনে ট্রাম্প টাওয়ারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প ও ইনফান্তিনো একে অপরের ভূয়সী প্রশংসা করেন। সেখানে ফিফার নতুন অফিসে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদোসহ প্রায় ৩০০ জন অতিথি উপস্থিত ছিলেন। ইনফান্তিনো ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "আপনার সাহায্য ছাড়া এই বিশ্বকাপ এত সফল হতো না।" ট্রাম্প নিজেও গর্বের সাথে মন্তব্য করেন, "আমরা যে একটি ফুটবলপ্রেমী দেশ, তা প্রমাণিত হয়েছে।"
এই আসরটি কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলেও, ট্রাম্প ২০৩৮ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের ক্ষেত্রে ভিন্ন পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, "পরের বার আমরা এককভাবে আয়োজনের চেষ্টা করব, তবে এবার মেক্সিকো ও কানাডাকে বাদ রাখব।"
ট্রাম্পের এই উপস্থিতি মার্কিন সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান ফক্স স্পোর্টসের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ধারাভাষ্যকার জন স্ট্রং জানান, তারা যেহেতু ওয়ার্ল্ড ফিড ব্যবহার করেন, তাই ট্রাম্পের দৃশ্যগুলো কখন দেখানো হবে তা তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। স্ট্রং আরও বলেন, ট্রাম্পকে নিয়ে দর্শকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে; কেউ তাকে দেখে উচ্ছ্বসিত, আবার কেউ তাকে পর্দায় দেখতে খুব একটা আগ্রহী নন।
উল্লেখ্য যে, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৮ সালে ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর নাম ঘোষণা করেছিল। সম্প্রতি মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনকে দেওয়া লাল কার্ড নিয়ে ফিফা সভাপতিকে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের অনুরোধের বিষয়টি নিয়ে বেশ বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তবে ফিফা দাবি করেছে, বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের কোনো ভূমিকা ছিল না।

