ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় ৮ জন নিহত, ক্ষতিগ্রস্ত ওয়াইল্ডবেরিজের গুদাম

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার বৃহত্তম অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজের দুটি গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রুশ কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত আটজন নিহত এবং ৬২ জন আহত হয়েছেন। রাজধানী মস্কো থেকে প্রায় ২৯৫ মাইল (৪৭৫ কিলোমিটার) দক্ষিণ-পূর্বে তাম্বভ শহরে অবস্থিত গুদামে সাতজন নিহত এবং ২৫ জন আহত হন। এছাড়া মস্কো অঞ্চলের ইলেকট্রোস্টালে অবস্থিত অন্য একটি গুদামে একজন নিহত ও ৩৭ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তাদের এই অভিযান রাশিয়ার বেসামরিক অবকাঠামো ও শহরগুলোতে চালানো রুশ হামলার পাল্টা জবাব। উল্লেখ্য, বুধবারের আগের রাতে ইউক্রেনজুড়ে রুশ হামলায় ১৪ জন নিহত হয়েছেন। জেলেনস্কি দাবি করেন, এসব গুদাম রাশিয়ার ড্রোন উৎপাদন ও নেভিগেশন সরঞ্জামের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। হামলার সময় তাম্বভ অঞ্চলে ২৮টি এবং মস্কো অঞ্চলে ৪৮টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে বলে স্থানীয় গভর্নররা জানিয়েছেন।

ওয়াইল্ডবেরিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তাতিয়ানা কিম এই ঘটনাকে কোম্পানির জন্য একটি ভয়াবহ রাত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। উল্লেখ্য, অ্যামাজনের রুশ সংস্করণ হিসেবে পরিচিত ওয়াইল্ডবেরিজ এবং বিজ্ঞাপন সংস্থা রুসের সমন্বয়ে গঠিত আরডব্লিউবি গ্রুপকে ২০২৬ সালে ফোর্বস রাশিয়া ১২.৬ বিলিয়ন ডলার (৯.৩ বিলিয়ন পাউন্ড) মূল্যের প্রতিষ্ঠান হিসেবে মূল্যায়ন করেছিল। তাম্বভ অঞ্চলের গভর্নর ইভজেনি পারভ্যেশভ জানিয়েছেন, নিহতেরা সবাই রাতের শিফটে কর্মরত ছিলেন এবং আহতদের বেশিরভাগই শার্পনেলের আঘাতে জখম হয়েছেন। মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রে ভোরোবিওভ জানিয়েছেন, ইলেকট্রোস্টালের হামলায় আহতদের মধ্যে আটজনের অবস্থা গুরুতর। সেখানে একটি রুশ তেল ডিপোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা তিনি অত্যন্ত গুরুতর ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ইউক্রেনীয় সিকিউরিটি অ্যান্ড কো-অপারেশন সেন্টারের চেয়ারম্যান সেরহি কুজান জানান, ওয়াইল্ডবেরিজ রাশিয়ার সামরিক রসদ সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রুশ স্বেচ্ছাসেবীরা এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সামরিক সরঞ্জাম, বডি আর্মার এবং ড্রোনের যন্ত্রাংশ ক্রয় করে থাকে। ইউক্রেন সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা জোরদার করেছে। কিয়েভের তথ্যমতে, এর ফলে রাশিয়ার ৪৩ শতাংশ তেল শোধনাগার সক্ষমতা অকেজো হয়ে পড়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া এই পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের অর্থায়নে রাশিয়া মূলত জীবাশ্ম জ্বালানি রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় ইউক্রেন এসব স্থাপনাকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য করে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত