যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত: যুদ্ধবিরতি ভেঙে আবারও পাল্টাপাল্টি হামলা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে তীব্র সংঘাত শুরু হওয়ায় গত মাসে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি এবং উভয় দেশের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। মঙ্গল ও বুধবারের পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় এই শান্তিপ্রক্রিয়া ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

অর্থনীতিবিদ জাভেদ হাসান আল-জাজিরাকে বলেন, উভয় পক্ষই যুদ্ধবিরতির এই সময়কে সংঘাতের পরবর্তী ধাপের জন্য নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে ব্যবহার করেছে। তাঁর মতে, ওয়াশিংটনের এই চুক্তি পুরোপুরি মেনে চলার অভিপ্রায় ছিল এমন প্রমাণ খুবই কম। অন্যদিকে, তেহরান এই সময়কে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যে তেল রপ্তানি সচল করা এবং নিজেদের কৌশলগত দাবিগুলো পুনর্ব্যক্ত করার কাজে লাগিয়েছে। ওপেন সোর্স ডেটা বিশ্লেষণ করে তিনি ধারণা করছেন, ইরান তেল বিক্রি থেকে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি ডলার সমপরিমাণ অর্থ সঞ্চয় করেছে।

জাভেদ হাসানের মতে, লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা সমঝোতা স্মারকের ১ নম্বর অনুচ্ছেদের স্পষ্ট লঙ্ঘন, যা সামরিক চাপ কমানোর শর্ত পূরণ করেনি। ওয়াশিংটন ডিসি থেকে আল-জাজিরার সাংবাদিক মাইক হান্না জানিয়েছেন, চলমান সামরিক পদক্ষেপের কারণে ইরানের সঙ্গে আলোচনা বাতিলের সিদ্ধান্তে মার্কিন প্রশাসন অনড়। ন্যাটো সম্মেলন শেষে হোয়াইট হাউসে ফেরা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছেন, যুদ্ধবিরতি ‘শেষ’। তবে প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা এখনো আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দিচ্ছেন।

মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় তারা ইরানের ১৭০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এটি গত ১৭ জুন যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর পর থেকে সবচেয়ে বড় পরিসরে হামলার ঘটনা। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগপ্রধান হোসেন কেরমানপোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, যুদ্ধবিরতি চলাকালেই ৭ ও ৮ জুলাই ইরানের পাঁচটি প্রদেশে মার্কিন হামলায় ১৪ জন শহীদ ও ৭৮ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া তেহরানের সঙ্গে যুক্ত রেলপথের দুটি সেতু, ইরান-তেহরান রেল করিডরের একাংশ এবং বুশেহরে পারমাণবিক স্থাপনার কাছেও হামলার তথ্য পাওয়া গেছে।

মার্কিন হামলার জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়েছে। বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে হামলার সতর্কতায় অন্তত তিনবার সাইরেন বেজে ওঠে। কুয়েত, কাতার এবং জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করেও ইরানি বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির ধারাগুলো, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি-সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে সংঘাত অনিবার্য ছিল, যা এখন নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে।