যুক্তরাষ্ট্রের টানা নবম দিনের হামলা, পাল্টা প্রতিরোধে ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতার আগুনে আজ সোমবার ভোররাতেও কেঁপে উঠেছে পুরো অঞ্চল। এদিন ইরানের ওপর আরও এক দফা বড় ধরনের হামলা চালানোর কথা নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন এই আগ্রাসনের জবাবে সিরিয়ায় ‘শত্রুবাহিনীর নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে’ পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কুয়েত ও জর্ডানের আকাশসীমায় অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং বাহরাইনও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) রোববার গভীর রাতে ঘোষণা করে, তারা টানা নবম রাতের মতো ইরানের ওপর এই হামলা পরিচালনা করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সেন্টকম জানায়, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের ওপর হামলায় ব্যবহৃত ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।

সোমবার ভোরে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, ইরানের আগ্রাসনের পর শত্রুপক্ষের ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। কুয়েত সেনাবাহিনীর সরকারি এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক পোস্টে বলা হয়, যেকোনো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলে বুঝতে হবে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। একই সময়ে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে তাদের বিমান হামলার সতর্কতাসূচক সাইরেন বেজে উঠেছে এবং নাগরিক ও বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে। জর্ডানও রোববার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সোমবার বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের দক্ষিণ–পূর্বে সিরিয়ার আল-তানফ অঞ্চলে শত্রুপক্ষের বিশেষ অভিযান নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে ‘আকস্মিক হামলা’ চালিয়েছে। টেলিগ্রামে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে তারা ঘোষণা করেছে, ‘শহীদ সেনাদের রক্তের প্রতিশোধ’ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর যৌথ হামলা শুরু করলে তেহরান পাল্টা জবাব হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশগুলোর সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এর মধ্যে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিও কার্যকরভাবে অবরুদ্ধ করে দিতে সক্ষম হয় ইরান। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে যেত। এছাড়া ইরান রোববার জানিয়েছে যে, এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা হামলার জবাবে তারা কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। তেহরানের দাবি, ওই হামলাগুলোতে একটি নির্মাণাধীন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ পরিবহন ও অবকাঠামো স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।