বলিউডের প্রখ্যাত অভিনেতা নানা পাটেকরের মৃত্যুর ঘটনাটি নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে। গোয়া পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষার সংহিতার ১৯৪ নম্বর ধারায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা (ইউডি কেস) নথিভুক্ত করা হয়েছে। মূলত কোনো আকস্মিক বা সন্দেহজনক পরিস্থিতির ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বর্তমানে তদন্তের সার্বিক দায়িত্বে রয়েছেন সাব-ইন্সপেক্টর নীতিন নায়েক। ধারাটিতে অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে মৃত্যুর ঘটনাসমূহ খতিয়ে দেখা হয় এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর সকালে গোয়ার দোনা পাউলার ওসান পার্কের নিজ বাসভবন থেকে নানা পাটেকরকে অসুস্থ অবস্থায় বাম্বোলিমের মণিপাল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন। পুলিশের ভাষ্যমতে, অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করার অর্থই এই নয় যে এর পেছনে কোনো অপরাধ রয়েছে। বরং আইনি নিয়ম মেনেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। বর্ষীয়ান অভিনেতা নানাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। এ কারণে হাসপাতালে আনার পর শুরু হয় মেডিকো-লিগ্যাল প্রক্রিয়া।
প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকদের দাবি অনুযায়ী, হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণেই এই প্রবীণ অভিনেতার মৃত্যু হয়েছে। তিনি আগে থেকেই হৃদরোগের সমস্যায় ভুগছিলেন এবং নিয়মিত ওষুধ সেবন করতেন। ঘটনার পর হাসপাতালের পক্ষ থেকে দ্রুত পানাজি থানায় খবর দেওয়া হয়। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
তদন্তকারী দল ইতিমধ্যে অভিনেতার পরিবার ও চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার আগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কিংবা অনুমান করা ঠিক হবে না। আইনি নিয়ম অনুযায়ী, সব তথ্য ও প্রমাণ যাচাইয়ের মাধ্যমে তদন্ত কার্যক্রম শেষ করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে অধিকতর স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। যা বলিউড তারকা নানার ক্ষেত্রেও হচ্ছে।

