আগামী দিনের যোগ্য নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য শিশুদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার রাজধানীর বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৫-২৬’ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মাঠের পাশে বসে বালিকাদের ফুটবল ফাইনাল খেলা উপভোগ করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, মীর হেলাল, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ক্রীড়া সচিব মাহবুব-উল-আলমও বক্তব্য রাখেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে শিশুদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরা যদি নিজেদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারো, তবেই আমরা ভবিষ্যতে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে সক্ষম হবো। তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, গ্যালারিতে বসে থাকা এই হাজারো শিশুর মধ্য থেকেই ভবিষ্যতে দেশের সেরা ডাক্তার, আর্কিটেক্ট, ইঞ্জিনিয়ার, ক্রিকেটার, সাঁতারু ও টেনিস খেলোয়াড় বেরিয়ে আসবে। তিনি শিশুদের নিজেদের কখনো ছোট করে না দেখার পরামর্শ দিয়ে বলেন, তোমরা যত শক্তভাবে নিজেদের গড়ে তুলবে, দেশ ততটাই সুন্দরভাবে গড়ে উঠবে।

গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী একটি বিশেষ অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে আমার অনুরোধ, আজকের এই নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ইভেন্টটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। গ্যালারিতে বসে থাকা এই শিশুরাই আগামীর বাংলাদেশ। তাই আগামীকালকের সংবাদপত্রে বা টেলিভিশনের সংবাদে যেন এই শিশুদের খেলার খবরটিকে লিড নিউজ হিসেবে প্রচার করা হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, গণমাধ্যমগুলো এই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরবে।

সরকারপ্রধান আরও বলেন, বাংলাদেশে অনেক সমস্যা রয়েছে এবং আমরা তা অস্বীকার করছি না। তবে এই সমস্যার পাশাপাশি আমরা বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে কাজ করছি। অনেক স্কুলে হয়তো পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নেই, ফ্যান বা অন্যান্য ব্যবস্থা ঠিক নেই, তবে সরকার তা পর্যায়ক্রমে সমাধানের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। তিনি শিশুদের কাছে একটি প্রতিশ্রুতি চান যে, তারা যেন নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশ গড়ার কাজে অংশ নেয়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী গ্যালারিতে উপস্থিত কিশোর-কিশোরীদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রাখেন, কারা বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে কাজ করবে? তখন গ্যালারিতে থাকা হাজার হাজার শিক্ষার্থী হাত তুলে সম্মতি জানালে প্রধানমন্ত্রী তাদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, পড়ার সময়ে যেমন মন দিয়ে পড়তে হবে, তেমনি খেলার সময়েও পূর্ণ মনোযোগ দিতে হবে।

পরিবেশ রক্ষায় শিশুদের সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাস্তা দিয়ে চলার সময় বা বাসার আশেপাশে কেউ ময়লা বা প্লাস্টিকের বোতল ফেললে তোমরা তা বারণ করবে। প্রয়োজনে সেই ময়লা তুলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। তিনি আরও বলেন, তোমরা যারা পড়াশোনা, গান, ছবি আঁকা বা খেলাধুলায় আগ্রহী, তোমাদের সব ধরনের সহযোগিতা দিতে সরকার বদ্ধপরিকর। তোমরা নিজেদের গড়ে তোলো, কারণ বাংলাদেশ তোমাদের দিকেই তাকিয়ে আছে।

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সকল ক্ষুদে খেলোয়াড় ও বিজয়ীদের অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিশুদের অভিভাবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিজয়ীদের হাতে ট্রফি, ক্রেস্ট, মেডেল এবং চেক তুলে দেন।

উল্লেখ্য, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ফুটবলের ফাইনালে বালকদের মধ্যে সিলেট অঞ্চল এবং বালিকাদের মধ্যে রংপুর অঞ্চল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। বালকদের ফাইনালে সিলেট অঞ্চল ১-০ গোলে ময়মনসিংহ অঞ্চলকে পরাজিত করে। অন্যদিকে, বালিকাদের ফাইনালে রংপুর অঞ্চল ৪-০ গোলে রাজশাহীকে হারিয়ে শিরোপা জয় করে। গত ২রা মে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে এই প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আঞ্চলিক পর্যায়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার ক্ষুদে ক্রীড়াবিদ আটটি ডিসিপ্লিনে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় এবং জাতীয় পর্বের খেলাগুলো ঢাকার বিভিন্ন ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হয়।