ফিক্সিংয়ের অভিযোগ: জরুরি বৈঠকে বসছে চেন্নাই সুপার কিংস

চেন্নাই সুপার কিংস (সিএসকে) ফ্র্যাঞ্চাইজির অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তে নামার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। খেলার মাঠে দুর্নীতির প্রতি তাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে বলে জানিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি বলেছে, এই ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর সিএসকের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগেই পরবর্তী কয়েকদিনের মধ্যে দলটির বোর্ড কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে জরুরি আলোচনায় বসছেন।

তেহলকা ওয়েবসাইটের সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, চেন্নাই সুপার কিংসের একজন ক্রিকেটার দলের গোপন ও সংবেদনশীল তথ্য দিল্লির এক সাবেক প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারের কাছে পাচার করতেন। এরপর সেই তথ্য লন্ডনের জুয়াড়িদের কাছে ৬০ লাখ রুপির বিনিময়ে বিক্রি করা হতো। ওই ক্রিকেটার, যিনি ক্যারিয়ারে ছয়টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন, তিনি একজন ছদ্মবেশী সাংবাদিকের কাছে দাবি করেন যে, এভাবে তথ্য বিক্রি করে তিনি ইতোমধ্যে ৩ কোটি রুপি আয় করেছেন। সিএসকে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের কাছে আসা এই তথ্যগুলো এখনো যাচাইযোগ্য নয়, তবে বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় তারা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।

অভিযুক্ত ওই ক্রিকেটার আরও দাবি করেছেন, যদি তার সোর্সকে আইপিএলের নিলামে কেনা সম্ভব হয়, তবে ২০২৬ সালেও তিনি গোপন তথ্য সরবরাহ করতে পারবেন। এছাড়া ম্যাচ ফিক্সিংয়ের সহায়তার জন্য তিনি ১ কোটি রুপি দাবি করেন এবং বিষয়টি সফল হওয়ার ৯০ শতাংশ নিশ্চয়তা দেন। তবে নিলামে ওই সোর্সকে দলে নেওয়া হয়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ক্রিকেটার আরও জানিয়েছিলেন যে, তার সোর্স দিল্লির দিল্লি প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) অংশ নেওয়া একটি দলের অভ্যন্তরীণ তথ্যও সরবরাহ করবে। এমনকি গত ৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত ডিপিএল-এর একটি ম্যাচের তথ্যের সঙ্গে সেই অভিযোগের মিল পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে, দিল্লির দিল্লি ও ডিস্ট্রিক্ট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (ডিডিসিএ) এই প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন এবং অপ্রতিষ্ঠিত বলে অভিহিত করেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে তারা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পরামর্শ চেয়েছে। উল্লেখ্য, সিএসকের ওই ক্রিকেটারের পরিচয় প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে, সিএসকের প্রমোটার গ্রুপের এক সদস্য অবৈধ জুয়া ও বেটিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিল।