মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার আকুয়া গ্রামের ইয়াওর খানের মেয়ে আনিসা খান এখন ইংল্যান্ড জাতীয় নারী কাবাডি দলের অধিনায়ক। ১৯৭৩ সালে তার বাবা যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান এবং সেখানেই আনিসার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। চার ভাইবোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট আনিসা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাবাডি খেলোয়াড় হিসেবে নিজের এক অনন্য পরিচয় তৈরি করেছেন। আগামী ২৩শে অক্টোবর ভারতের আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিতব্য কমনওয়েলথ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপে ইংল্যান্ডের নেতৃত্ব দেবেন তিনি। এই দায়িত্ব পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক প্রতিক্রিয়ায় আনিসা জানান, ২০১৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি প্রথম কাবাডি সোসাইটিতে যোগ দেন। একটি নতুন খেলা তাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে আসবে তা তিনি কখনও ভাবেননি। ২০১৭ সালে সম্পূর্ণ নতুন হিসেবে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের কাবাডি সোসাইটিতে যোগ দিয়েছিলাম। আমি কখনো ভাবিনি যে একটি নতুন খেলা আমাকে এখানে নিয়ে আসবে। ব্যস্থতা থাকা সত্ত্বেও আনিসা কখনো কাবাডি থেকে দূরে সরে যাননি।
খেলার পাশাপাশি আনিসা খান পেশাগত জীবনে একজন কনসালটেন্ট ও সফল উদ্যোক্তা। লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্স থেকে অর্থনৈতিক উন্নয়নে স্নাতক শেষ করে তিনি আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অ্যাকসেঞ্চারে কর্মজীবন শুরু করেন। করোনা মহামারী চলাকালীন সময়ে তিনি ‘বোম্বে পিৎজা’ নামে নিজস্ব ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তার ক্যারিয়ারের একটি বড় মোড় আসে ২০২৫ সালে, যখন তিনি বিবিসি ওয়ান-এর জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘দ্য অ্যাপ্রেন্টিস’-এ অংশগ্রহণ করে ব্যাপক পরিচিতি পান। ওই প্রতিযোগিতায় রানার-আপ হয়ে তিনি বিখ্যাত ব্রিটিশ ব্যবসায়ী লর্ড অ্যালান সুগারের কাছ থেকে আড়াই লাখ পাউন্ডের ব্যবসায়িক বিনিয়োগ লাভ করেন। আনিসা খান কোভিড-১৯ মহামারীর সময় ‘বোম্বে পিৎজা’ নামক ব্যাবসা প্রতিষ্ঠা করেন।
ব্যস্ত ব্যবসায়িক জীবন ও টেলিভিশন অনুষ্ঠানের মাঝেও আনিসা কাবাডির প্রতি তার ভালোবাসা ধরে রেখেছেন। তিনি জানান, উচ্চশিক্ষা, চাকরি কিংবা ব্যবসায়ী রিয়েলিটি শো—জীবনের নানা বাঁক পার হলেও কাবাডি সবসময় তার সঙ্গে ছিল। এর আগে ২০২৪ সালে ইউরোপীয় বিচ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপাজয়ী ইংল্যান্ড দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি; সেই আসরে রানার্সআপ হয়েছিল পোল্যান্ড। এদিকে, আনিসা খানের এই সাফল্যে গর্বিত রাজনগরের প্রবাসীরা। রাজনগর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান খান তার সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, আনিসা পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটির মুখ উজ্জ্বল করেছেন এবং তিনি আরও সম্মান বয়ে আনবেন বলে তারা আশা করছেন।

