ইন্টার মিলানের বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদের জয় দিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ শুরু

মঙ্গলবার রাতে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে নিজেদের সাবেক কোচ জোসে মরিনহোর অধীনে রিয়াল মাদ্রিদ ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে ইন্টার মিলানকে। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে প্রথমার্ধে ইন্টারের রক্ষণভাগের দুটি বড় ভুলের সুযোগ নিয়ে দুই গোলের লিড নেয় রেকর্ড ১৫ বারের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা। কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ফেদে ভালভার্দে গোল দুটি করেন। ক্রিস্টিয়ান চিভুর শিষ্যদের হয়ে ৭৭তম মিনিটে কার্লোস অগাস্তো এক গোল শোধ করলেও শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াল।

ম্যাচের উল্লেখযোগ্য মুহূর্তসমূহ

  • ম্যাচের ১৪তম মিনিটে কার্টিস জোন্সের একটি দুর্বল পাস ইয়ান বিসেককে চাপে ফেলে। সেই সুযোগে ব্রাহিম দিয়াজ বল কেড়ে নিয়ে এমবাপ্পেকে পাস দেন, যা থেকে এমবাপ্পে দ্রুত গোল করে দলকে এগিয়ে নেন।
  • রিয়ালের দ্বিতীয় গোলটি আসে ইন্টার গোলরক্ষক জোসেপ মার্টিনেজের ভুলে। ভালভার্দে সরাসরি তার দিকে ছুটে গেলে বল নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হন গোলরক্ষক, আর সেই সুযোগে উরুগুইয়ান তারকা বল জালে জড়িয়ে দেন।
  • প্রথমার্ধেই ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ ছিল রিয়ালের, কিন্তু গোলরক্ষক মার্টিনেজ জুড বেলিংহামের একটি নিশ্চিত গোল দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন।
  • দ্বিতীয়ার্ধে এমবাপ্পে ইন্টারের রক্ষণভাগ চিরে এগিয়ে গেলেও মার্টিনেজ তার শট আটকে দেন এবং পরবর্তীতে বেলিংহামের পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকেও বল প্রতিহত করেন।
  • ইন্টার মিলান ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন। তিনি মার্কাস থুরাম, লাউতারো মার্টিনেজ এবং আলেসান্দ্রো বাস্তোনির শটগুলো আটকে দিয়ে রিয়ালের লিড ধরে রাখেন।
  • ৭৭তম মিনিটে লাউতারো মার্টিনেজের ক্রস থেকে কার্লোস অগাস্তো গোল করে ব্যবধান কমালে ম্যাচটি বেশ উত্তেজনাকর হয়ে ওঠে।
  • ম্যাচের শেষ দিকে হেনরিখ মখিতারিয়ানের একটি ডিফ্লেক্টেড শটও কোর্তোয়া প্রতিহত করেন, যা রিয়ালকে পূর্ণ পয়েন্ট নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।

ম্যাচ শেষে রিয়াল মাদ্রিদের কোচ জোসে মরিনহো তার পুরনো ক্লাবের বিপক্ষে এই জয়কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন। ২০১০ সালে এই একই স্টেডিয়ামে ইন্টার মিলানকে চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জিতিয়েছিলেন মরিনহো, যা ছিল তার এবং ইন্টারের শেষ ইউরোপিয়ান সাফল্য। লা লিগায় রিয়াল বেটিসের কাছে হারের পর এই জয় রিয়াল মাদ্রিদ শিবিরে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। তবে ম্যাচের এক পর্যায়ে আলভারো কারেরাসকে বদলি হিসেবে নামাতে দেরি হওয়ায় এবং ভিনিসিউস জুনিয়র মাঠ ছাড়তে সময় নেওয়ায় গ্যালারিতে থাকা রিয়াল সমর্থকরা কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সামগ্রিকভাবে, রিয়াল মাদ্রিদ তাদের চ্যাম্পিয়নস লিগ যাত্রায় একটি জয় দিয়ে শুভসূচনা করল, যদিও ইন্টার মিলান শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গিয়েছিল।