ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, তাদের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মুখে পড়ে দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ সংঘাতপূর্ণ এলাকা থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের ভাষ্যমতে, একটি বিমানবাহী রণতরী ও একটি যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। তাদের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে জাহাজ দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেগুলো ওই এলাকা ত্যাগ করে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা ইরনার তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছে।
তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের পক্ষ থেকে ভিন্ন বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। সেন্টকম জানিয়েছে, আঞ্চলিক জলসীমায় টহলরত দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল, কিন্তু জাহাজ দুটি সফলভাবে হামলা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। মার্কিন বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, এই ঘটনায় কোনো যুদ্ধজাহাজে আঘাত লাগেনি এবং কোনো মার্কিন সেনাও আহত হননি।
আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী আরও কঠোর ও তীব্র জবাব দিতে প্রস্তুত। এর আগে শনিবার আইআরজিসির নৌবাহিনী জানায়, ইরানি একটি তেলবাহী জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার এবং অন্যান্য স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে সেন্টকম নিশ্চিত করে যে, তাদের বাহিনী ইরানের তিনটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সমুদ্রপথে একের পর এক হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় এই সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। এই উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

