চলতি বছরের ১ মার্চ থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ২১ হাজার ৯৫১ জন পাকিস্তানি নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এমএনএ হামিদ হোসাইনের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে দেশটির মাদক নিয়ন্ত্রণ মন্ত্রণালয় এই তথ্য প্রকাশ করে। মূলত অতিরিক্ত সময় অবস্থান, ভিক্ষাবৃত্তি, অবৈধ প্রবেশ, মাদক সংশ্লিষ্টতা, আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যান, জাল কাগজপত্র এবং নিরাপত্তাজনিত বিভিন্ন অভিযোগে তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, বহিষ্কৃতদের মধ্যে ৪ হাজার ৬২৮ জন পলাতক, ১ হাজার ২৯৪ জন কারাবন্দী এবং ৯৬৮ জন কালো তালিকাভুক্ত ছিলেন। এছাড়া পাসপোর্ট হারানোর ঘটনায় ১ হাজার ১৫৫ জনের বিরুদ্ধে বহিষ্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ভিসা লঙ্ঘনের দায়ে ৬৮৯ জন এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রবেশে প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় ৩৪২ জন পাকিস্তানিকে ফেরত পাঠানো হয়। এর মধ্যে ৪৭২ জন ভিক্ষুককেও বহিষ্কারের আওতায় আনা হয়েছে।
দেশভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি পাকিস্তানিকে বহিষ্কার করেছে সৌদি আরব, যাদের সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার ৫০০ জন। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ৩ হাজার ৮০৩ জন, ওমান ১ হাজার ৬০৬ জন, বাহরাইন ৫২১ জন, কাতার ৪২৯ জন এবং কুয়েত ৯৭ জন পাকিস্তানিকে ফেরত পাঠিয়েছে। এর বাইরে আরও ৬ হাজার ৬৬২ জন পাকিস্তানিকে ‘অন্যান্য’ ক্যাটাগরিতে বহিষ্কার করা হয়েছে।
পলাতক পাকিস্তানিদের মধ্যে সৌদি আরব ৩ হাজার ৯২১ জনকে এবং ইউএই ৬৩৬ জনকে বহিষ্কার করেছে। অতিরিক্ত সময় অবস্থান বা অবৈধ প্রবেশের অভিযোগে সৌদি আরব ১ হাজার ৯২৪ জন, ইউএই ৩৪৭ জন এবং ওমান ২৯৫ জন পাকিস্তানিকে বিতাড়িত করেছে। এছাড়া ইউএই থেকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ৯ জন পাকিস্তানিকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি ভুয়া পরিচয় ব্যবহার, মেয়াদোত্তীর্ণ ইকামা ও পাসপোর্ট, চুরি এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের মতো বিভিন্ন কারণেও অনেককে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দেশটি প্রায় ১৫ হাজার ৫০০ জন পাকিস্তানিকে বিতাড়িত করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ছাড়া উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে ৪৭২ জন পাকিস্তানি ভিক্ষুককেও বহিষ্কার করা হয়েছে।

