দেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। এই লক্ষ্য অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সাথে যৌথ গবেষণায় অর্থায়ন বৃদ্ধি, প্রযুক্তি হস্তান্তর কার্যালয় (টিটিও) প্রতিষ্ঠা এবং স্টার্টআপ ইনকিউবেটর তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
রোববার চট্টগ্রামের ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি চট্টগ্রামে (আইআইইউসি) আয়োজিত ‘পঞ্চম ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন ইনোভেশন্স ইন সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, গবেষণার পরিধি কেবল গবেষণাপত্র প্রকাশনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধান, নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং শিল্পের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে গবেষণার ফলাফল কাজে লাগাতে হবে। গবেষণার প্রকৃত সাফল্য প্রোটোটাইপ তৈরি ও মেধাস্বত্ব সংরক্ষণের মধ্যেই নিহিত থাকে।
অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ আরও উল্লেখ করেন যে, দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রযুক্তি, সফটওয়্যার ও পরামর্শসেবার জন্য এখনো বিদেশের ওপর নির্ভরশীল। অথচ দেশীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের হাতেই এসব সমস্যার সমাধান রয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দরের সরবরাহ ব্যবস্থা, তৈরি পোশাক কারখানায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধির মতো খাতে গবেষণালব্ধ জ্ঞানের ব্যবহারের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।
ইউজিসি চেয়ারম্যান জানান, প্রযুক্তি হস্তান্তর কার্যালয় বা টিটিওর মাধ্যমে উদ্ভাবিত প্রযুক্তির মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ ও তা শিল্পে ব্যবহারের যথাযথ ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি স্টার্টআপ ইনকিউবেটরের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী আইডিয়াকে ব্যবসায়িক মডেলে রূপ দিতে কৌশলগত অনুদান প্রদানের পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে প্রায় এক কোটি উচ্চমূল্যের কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য সামনে রেখে সংস্থাটি এই কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে। আইআইইউসির ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী আজাদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে দেশি-বিদেশি শিক্ষক ও গবেষকরা অংশগ্রহণ করেন।

