টানা তিন হারে সংকটে ম্যানচেস্টার সিটি, রেকর্ড গড়ে বিপর্যয়ে মারেস্কার দল

ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে দুর্দান্ত সূচনার পর বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। মৌসুমের প্রথম সাতটি ম্যাচ জিতে আত্মবিশ্বাসী থাকা এনজো মারেস্কার দল এখন বড় এক দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। শনিবার সিটি গ্রাউন্ডে নটিংহ্যাম ফরেস্টের বিপক্ষে ৩-১ গোলের পরাজয়ের ফলে লীগ টেবিলে টানা তিন ম্যাচ হারের লজ্জায় ডুবল বর্তমান রানার্সআপরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই সিটির রক্ষণভাগ ছিল নড়বড়ে। ষষ্ঠ মিনিটে ইওস্কো গাভার্দিওলের ভুলে বল পেয়ে জাইর কুনহা নটিংহ্যামকে এগিয়ে দেন। পরবর্তীতে লিয়াম দেলাপের জোড়া গোল স্বাগতিকদের নিয়ন্ত্রণ আরও মজবুত করে। এছাড়া এলিয়ট অ্যান্ডারসন ও রিয়ান চেরকির মতো খেলোয়াড়দের বিপক্ষে সিটির মাঝমাঠ ও রক্ষণভাগ কোনো ছন্দই দেখাতে পারেনি। রিভার ট্রেন্টের তীরে ফরেস্টের সমর্থকরাও সিটির এই পারফরম্যান্স নিয়ে মাঠজুড়ে ব্যঙ্গাত্মক গান গেয়ে বিদ্রূপ করেন।

ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় কোচ এনজো মারেস্কা নিজের হতাশা লুকাননি। তিনি বলেন, ‘প্রথমার্ধে আমরা তাদের তীব্রতা বা সেকেন্ড বলের লড়াইয়ে টিকতে পারিনি। ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ফেরার চেষ্টা করেছিলাম এবং গোলও পেয়েছি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাউন্টার অ্যাটাকে আরও গোল খেয়েছি। প্যানিক করার সময় নেই, তবে পরিস্থিতি শুধরে নিতেই হবে।’ সাবেক লিভারপুল মিডফিল্ডার ডানি মারফি সিটির এমন পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘মানসিকতায় বড় ঘাটতি ছিল তাদের। অবনমন এড়াতে লড়ছে এমন দলের বিপক্ষে এমন পারফরম্যান্স কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।’

এই পরাজয় প্রিমিয়ার লীগের ইতিহাসে সিটিকে এক বিব্রতকর রেকর্ডের মুখে দাঁড় করিয়েছে। ১৯০৪-০৫ মৌসুমে শেফিল্ড ওয়েডনেসের পর ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় দল হিসেবে প্রথম সাত ম্যাচ জেতার পর টানা তিনটিতে হারল তারা। অন্য ম্যাচে হাল সিটির বিপক্ষে ১-০ গোলে জিতে আর্সেনাল শীর্ষে অবস্থান করছে। গানারদের চেয়ে ১০ ম্যাচ শেষে ৬ পয়েন্ট পিছিয়ে আছে সিটি। তবে ইতিহাস বলছে, ২০০২-০৩ মৌসুমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং ২০১৩-১৪ মৌসুমে সিটিজেনরা এর চেয়ে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি প্রিমিয়ার লীগের আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের দায়ে তদন্ত ও আপিল প্রক্রিয়া ক্লাবের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। ফিফা উইন্ডোর বিরতির আগে রক্ষণভাগের ভুল সংশোধন এবং দলের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনাই এখন কোচ এনজো মারেস্কার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে বিরতির পর নতুন রূপে ফিরতে হবে দলটিকে।