এশিয়ান গেমসে এবারই প্রথমবারের মতো পূর্ণশক্তির দল নিয়ে অংশ নিয়েছিল বাংলাদেশ। শক্তিশালী স্কোয়াড হওয়ায় টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই প্রত্যাশার পারদ ছিল আকাশচুম্বী, এমনকি ফাইনালে খেলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন অধিনায়ক নিজেও। তবে জাপানে মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে দুইবার স্বপ্নভঙ্গের শিকার হলো বাংলাদেশ। শক্তিশালী দল গড়েও শেষ পর্যন্ত কোনো পদক ছাড়াই মাঠ ছাড়তে হলো তাদের। দেশ ছাড়ার আভে অধিনায়ক নিজেও জানিয়েছিলেন, ফাইনালে খেলার প্রত্যয়ের কথা। পূর্ণশক্তির দল নিয়েও পুরুষ ক্রিকেটে কোনো পদক জিততে পারল না বাংলাদেশ।
জাপানের করোগি স্পোর্টস পার্কে ৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে রীতিমতো অসহায় ছিল বাংলাদেশ। টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৬৫ রান সংগ্রহ করে টাইগাররা। জবাব দিতে নেমে মাত্র ১০২ রানেই গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা, আর ৬৩ রানের বিশাল ব্যবধানে ম্যাচ জিতে ব্রোঞ্জ নিজেদের করে নেয় লঙ্কানরা।
ম্যাচে ‘মাঝারি শক্তির’ শ্রীলঙ্কান বোলারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটাররা। নুয়ান থুসারা, থারিন্ডু রাত্নায়েক, ভিজয়কান্ত বিয়াসাখ এবং বানুজা সাহানদের বোলিং তোপে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় ব্যাটিং লাইনআপ। ইনিংসের শুরুতেই লিটন দাস, তানজিদ হাসান ও সাইফ হাসান কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন। মাত্র ৪ রানে ৩ উইকেট হারানোর ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতন ঘটে। বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৬ রান করেন নাসুম আহমেদ, ২২ রান আসে পারভেজ হোসেন ইমনের ব্যাট থেকে। এছাড়া ইয়াসির আলী ২১, তাওহিদ হৃদয় ১১ এবং রিশাদ হোসেন ১০ রান যোগ করেন। লঙ্কানদের হয়ে থুসারা, রাত্নায়েক, বিয়াসাখ ও সাহান দুটি করে উইকেট শিকার করেন। ২১ আসে ইয়াসির আলীর ব্যাটে। শুরুর এই ধাক্কা আর সামাল দিয়ে উঠতে পারেনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং ইনিংসের শুরুটাও ছিল হতাশাজনক। দলীয় ২১ রানেই তারা প্রথম ৪ উইকেট হারিয়েছিল। তবে কঠিন সেই পরিস্থিতি থেকে থারিন্ডু রাত্নায়েক ও অধিনায়ক শাহান আরচাগের ৯৩ রানের জুটিতে ম্যাচে ফেরে লঙ্কানরা। রাত্নায়েক ৩২ বলে ৭টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৬৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন এবং অধিনায়ক আরচাগে করেন ৩৩ রান। বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন শেখ মেহেদী, মুস্তাফিজুর রহমান ও সাইফ হাসান। ৩২ বলে ৭ চার ও ৫ ছক্কায় ৬৫ রান করেন রত্মায়েক।

