ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলে নতুন চুক্তিতে ফোর্ড, জাঙ্গু ও মাঙ্গু

ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ (সিডব্লিউআই) বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) তাদের ২০২৬-২৭ মৌসুমের জন্য চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে। এই তালিকায় ম্যাথিউ ফোর্ড, আমির জাঙ্গু এবং ম্যান্ডি মাঙ্গু তাদের ক্যারিয়ারের প্রথমবারের মতো ওয়েস্ট ইন্ডিজ আন্তর্জাতিক রিটেইনার চুক্তি অর্জন করেছেন। এছাড়া সাত বছরের দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের গ্রুপে ফিরে এসেছেন অভিজ্ঞ ব্যাটার জন ক্যাম্পবেল। ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, ১৫ জন পুরুষ এবং ১৫ জন নারী ক্রিকেটারকে সিনিয়র রিটেইনার চুক্তির আওতায় আনা হয়েছে, যার পাশাপাশি পুরুষদের জন্য তিনটি ডেভেলপমেন্ট চুক্তিও রাখা হয়েছে। সব ধরনের চুক্তি ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

জন ক্যাম্পবেলের প্রত্যাবর্তন ও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স

জন ক্যাম্পবেলের এই প্রত্যাবর্তন গত ২০২৫-২৬ মৌসুমে তার অসাধারণ ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের ফসল। এই মৌসুমে তিনি ভারতের বিপক্ষে দিল্লির মাঠে অপরাজিত ১১৫ রানের ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দেন। এছাড়া দীর্ঘ ছয় বছরের বিরতি ভেঙে ওয়ানডে দলে ফিরে গৌহাটিতে ভারতের বিপক্ষে ৬৮ বলে ১০১ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস উপহার দিয়েছিলেন তিনি।

ফোর্ড ও জাঙ্গুর আন্তর্জাতিক সাফল্য

ম্যাথিউ ফোর্ড এবং আমির জাঙ্গু তাদের নিজ নিজ ফরম্যাটে ধারাবাহিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই চুক্তি পেয়েছেন। ফোর্ড গত এক বছরে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ১০টি এবং ওয়ানডেতে ৬টি উইকেট শিকার করে পাওয়ারপ্লে ওভারগুলোতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শীর্ষ বোলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। অন্যদিকে, আমির জাঙ্গু জুন মাসে অ্যান্টিগায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৩৩ রানের বিশাল এক ইনিংস খেলে বিশ্ব ক্রিকেটে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন। এই ম্যাচে টেস্ট অধিনায়ক রোস্টন চেজের সঙ্গে তার গড়া ৪০১ রানের জুটি টেস্ট ক্রিকেটে ষষ্ঠ উইকেটে নতুন বিশ্ব রেকর্ড হিসেবে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে।

ডেভেলপমেন্ট চুক্তি ও সিডব্লিউআইয়ের লক্ষ্য

সিডব্লিউআইয়ের ক্রিকেট পরিচালক মাইলস বাসকম্ব বলেন, “ডেভেলপমেন্ট চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক সেট-আপে অন্তর্ভুক্ত করা, যাতে আমরা তাদের অগ্রগতির ওপর নিবিড় নজর রাখতে পারি এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে পারি। তারা এখন নিয়মিত নির্বাচকদের বিবেচনায় থাকবে, যা তাদের ক্যারিয়ার বিকাশে সেরা পরিবেশ তৈরি করবে।” চুক্তির এই তালিকায় জুয়েল অ্যান্ড্রু, আকিম অগাস্ট এবং ভিটেল লুইসকে ডেভেলপমেন্ট চুক্তির আওতায় আনা হয়েছে। উল্লেখ্য, অগাস্ট এবং লুইসের জন্য এটিই ক্যারিয়ারের প্রথম চুক্তি। এছাড়া কিসি কার্টি, রোস্টন চেজ, জাস্টিন গ্রিভস এবং জোমেল ওয়ারিকান তাদের দুই বছরের চুক্তির দ্বিতীয় বছরে পদার্পণ করেছেন।

নারী দলের চুক্তিবদ্ধ তালিকায় পরিবর্তন

নারী দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ম্যান্ডি মাঙ্গু তার ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক রিটেইনার চুক্তি পেয়েছেন। তিনি ২০২৬ আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। এছাড়া ডিয়ান্ড্রা ডটিন এবং চিনেল হেনরি তাদের দুই বছরের চুক্তির দ্বিতীয় বর্ষ শুরু করেছেন। সিডব্লিউআই স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, যেসব খেলোয়াড় এই কেন্দ্রীয় চুক্তিতে স্থান পাননি, তারা বরাবরের মতোই ওয়েস্ট ইন্ডিজের সব জাতীয় দলের হয়ে নির্বাচনের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন।