ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের টেস্ট স্কোয়াডে লিটন দাস

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আসন্ন দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের জন্য শুক্রবার দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ইনজুরির কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজে খেলতে পারেননি উইকেটরক্ষক ব্যাটার লিটন কুমার দাস। হিপ জয়েন্টের সেই চোট থেকে তিনি পুরোপুরি সেরে না উঠলেও নির্বাচকরা তাকে নিয়েই দল সাজিয়েছেন। লিটনের বিষয়ে প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন জানান, তাকে নিয়ে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও তারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চান। দলে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ‘লিটনকে নিয়ে একটু কনসার্ন আছে। তবে আমরা আশাবাদী সে দ্রুতই পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবে, যা দলের ভারসাম্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আশাবাদী এবং আত্মবিশ্বাসী।’ গত জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ে সিরিজে টি–টুয়েন্টি খেলতে গিয়ে সাইড স্ট্রেইনের চোটে পড়েন নাহিদ। তাকে এর আগে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দলেও রাখা হয়েছিল।

কেন দলে লিটন দাস

ইনজুরি থাকা সত্ত্বেও লিটনকে দলে নেওয়ার নেপথ্যে রয়েছে তার সাম্প্রতিক দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা।

গত পাঁচ বছরে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ৩০ ম্যাচ খেলে ২০৫৮ রান সংগ্রহ করেছেন এই ডানহাতি ব্যাটার।

মিডল অর্ডার সামলানোর পাশাপাশি উইকেটের পেছনেও তিনি দলের অন্যতম প্রধান ভরসা। সর্বশেষ আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে একটি শতক ও একটি অর্ধশতকসহ ১৫৫ রান করেছিলেন লিটন। ওই ম্যাচে নয়টি ডিসমিসালের রেকর্ডও গড়েছিলেন তিনি। বিসিবির পরিকল্পনা হলো, লিটন শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি ফিট না হতে পারলে জাকের আলী অনিক তার জায়গা নেবেন। অন্যদিকে, ইনজুরির কারণে দীর্ঘদিন ধরে মাঠের বাইরে থাকা নাহিদ রানা নতুন করে নিতম্বে ব্যথা অনুভব করায় এই স্কোয়াডেও থাকতে পারছেন না। পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় থাকা নাহিদ রানাকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না বিসিবি। ওই ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে দেশের জার্সিতে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের রেকর্ডও গড়েন তিনি।

সৌম্য ও খালেদকে নিয়ে নির্বাচকদের পরিকল্পনা

সৌম্য সরকারকে বাদ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হাবিবুল বাশার উল্লেখ করেন, টেস্ট ফরম্যাটে নিয়মিত ওপেনিং জুটি অপরিবর্তিত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে টিম ম্যানেজমেন্টের। ফলে একাদশে সৌম্যর সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ ছিল। নির্বাচকদের মতে, বেঞ্চে বসে থাকার চেয়ে ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে ম্যাচ অনুশীলনের মধ্যে থাকাটা সৌম্যর জন্য বেশি কার্যকর হবে। একইভাবে পেসার খালেদ আহমেদকে বাদ দেওয়ার পেছনেও একই যুক্তি দেওয়া হয়েছে। দলে চার পেসার হিসেবে তাসকিন আহমেদ, ইবাদত হোসেন, শরিফুল ইসলাম ও হাসান মাহমুদ রয়েছেন। মূল তিন পেসারের সাথে তাসকিন ফেরায় খালেদকে বাদ দিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত খেলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যেন দক্ষিণ আফ্রিকা সফর কিংবা সামনের চ্যালেঞ্জিং সিরিজগুলোর জন্য তিনি নিজেকে প্রস্তুত রাখতে পারেন। তাহলে আমাদের খুব বেশি পরিবর্তন করতে হবে না। পেসার খালেদ আহমেদকেও রাখা হয়নি এই টেস্টের স্কোয়াডে। স্কোয়াডে চারজন পেসার যথেষ্ট হওয়ায় খালেদের এই মুহূর্তে সুযোগ হয়নি।

টেস্ট সিরিজের সময়সূচি ও অন্যান্য তথ্য

  • সিরিজের প্রথম টেস্টটি শুরু হবে ২৮ অক্টোবর মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।
  • দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টটি অনুষ্ঠিত হবে ৫ নভেম্বর থেকে সিলেটে।
  • উভয় ম্যাচই বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অন্তর্ভুক্ত।
  • মিরপুর টেস্টে দর্শক সাধারণের জন্য উত্তর ও দক্ষিণ গ্যালারিতে প্রবেশের সুযোগ থাকছে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
  • তবে গ্র্যান্ড স্ট্যান্ড, শহীদ জুয়েল ও শহীদ মুশতাক স্ট্যান্ডসহ ভিআইপি হসপিটালিটি এরিয়াগুলোতে বিনামূল্যে প্রবেশের সুবিধা থাকছে না।

বাংলাদেশ টেস্ট দল

নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন কুমার দাস, তাওহিদ হৃদয়, জাকের আলী, মেহেদী হাসান মিরাজ (সহ-অধিনায়ক), তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, নাঈম হাসান, হাসান মাহমুদ, ইবাদত হোসেন ও শরিফুল ইসলাম।