সম্প্রতি ইউএস ওপেনের প্রথম রাউন্ডে মারিয়ানো নাভোনের কাছে অপ্রত্যাশিত হারের পর দীর্ঘ বিরতি নিয়েছেন ২৪ বারের গ্র্যান্ড স্লাম বিজয়ী নোভাক জোকোভিচ। সেই ম্যাচে ৩৯ বছর বয়সী এই সার্বিয়ান তারকা কাঁধ ও পিঠের ব্যথার পাশাপাশি অসুস্থতার কারণে মাঝপথেই বমি করেছিলেন। তবে সেই শারীরিক জটিলতা কাটিয়ে এখন তিনি চায়না ওপেনে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে প্রস্তুত। বেইজিংয়ে পৌঁছে সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জোকোভিচ জানান, তার শরীর এখন বেশ ভালো সাড়া দিচ্ছে এবং তিনি আত্মবিশ্বাসী।
টুর্নামেন্টে ফেরার প্রস্তুতি ও চ্যালেঞ্জ
বিশ্বের ১১ নম্বর এই তারকা বর্তমানে টুর্নামেন্টের প্রথম রাউন্ডে পর্তুগালের নুনো বোর্গসের বিপক্ষে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জোকোভিচ স্বীকার করেছেন যে অনুশীলনের সাথে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের পরিবেশ সম্পূর্ণ আলাদা। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত শারীরিক অবস্থা ও খেলার ছন্দ নিয়ে আমি সন্তুষ্ট। তবে আনুষ্ঠানিক ম্যাচের চাপ অনুশীলনের চেয়ে ভিন্ন, তাই ম্যাচ শুরু হলে আসল চিত্র বোঝা যাবে।’
বেইজিংয়ে পুরনো সাফল্যের রেকর্ড
- জোকোভিচ ২০০৯, ২০১০, ২০১২, ২০১৩, ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে চায়না ওপেনের শিরোপা জয় করেছেন।
- এই টুর্নামেন্টে তার এখন পর্যন্ত জয়ের রেকর্ড ২৯-০, যা তাকে বেইজিংয়ে দর্শকদের কাছে অন্যতম প্রধান আকর্ষণে পরিণত করেছে।
- চীনের মাটিতে নিজের রেকর্ড নিয়ে জোকোভিচ বলেন, ‘এখানে আমার সাফল্যের ইতিহাস অবিশ্বাস্য। দীর্ঘ ১১ বছর পর আমি বেইজিংয়ে ফিরেছি।’
নিজের ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে জোকোভিচ এখন বেছে বেছে টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছেন। তার মূল লক্ষ্য রেকর্ড গড়া ২৫তম গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা জয় করা। তিনি জানান, ‘আমার ক্যারিয়ারের এই ধাপে আমি এমন সব টুর্নামেন্টকে গুরুত্ব দিচ্ছি যেখানে খেলতে আমি উপভোগ করি এবং দর্শকদের ইতিবাচক সাড়া পাই।’ বিগত বছরগুলোতে সূচির সীমাবদ্ধতার কারণে কেবল সাংহাই ওপেন খেললেও, এই বছর বেইজিং তার অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চায়না ওপেনের এই এটিপি ৫০০ টুর্নামেন্টে নিজের অতীতের পারফরম্যান্স থেকে পাওয়া বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোকোভিচকে চলতি আসরে ভালো খেলতে সহায়তা করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। বেইজিংয়ের কোর্টে নামার আগে তার এই ইতিবাচক মানসিকতা ভক্ত ও ক্রীড়ামোদীদের জন্য একটি বড় আশার খবর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

