তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনমুখী ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে: কাদের গনি

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমানে রাষ্ট্রক্ষমতা ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা থেকে বেরিয়ে সরাসরি জনগণের আঙিনায় পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএফইউজে মহাসচিব ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাদের গনি চৌধুরী। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, সরকার জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।

কাদের গনি চৌধুরী জানান, ডেল্টাগ্রামের জনমত জরিপে সরকারের প্রতি ৭৫ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষের সমর্থন ও সন্তুষ্টি উঠে এসেছে, যা জনগণের আস্থার প্রতিফলন। তার মতে, বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নের ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশের পেছনে বিএনপির অবদান রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, তারেক রহমানের হাত ধরেই দেশ একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে।

অর্থনৈতিক খাতের সংস্কার তুলে ধরে তিনি বলেন, ভারতীয় রুপি ও ডলারের তুলনায় বর্তমানে বাংলাদেশি টাকা বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হলে বিদেশি বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গতি আরও বাড়বে। চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত অপ্রচলিত বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি ৬৪২ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক রয়েছে। তৈরি পোশাক রপ্তানির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আগস্টে অপ্রচলিত বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি ৬৪২ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।

ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের হার প্রসঙ্গে তিনি জানান, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এটি ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ থাকলেও ২০২৬ সালের জুনে তা কমে ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশে নেমে এসেছে। এছাড়া সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম পাঁচ মাসে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে বলে তিনি জানান।

সরকারের ব্যয়সংকোচন নীতির উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর সীমিত করা হয়েছে এবং সরকারি গাড়ি ক্রয় ও অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আনা হয়েছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নিজেই নিজের মূল বেতনের ১০ শতাংশ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিচ্ছেন। সাধারণ মানুষের কল্যাণে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘কৃষক কার্ড’ ও ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার আওতায় বিভিন্ন পরিবারকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের জন্য কৃষি উপকরণ, ঋণ ও সরকারি সেবা সহজে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কৃষক কার্ড কার্যক্রমও বিভিন্ন জেলায় শুরু হয়েছে।

কৃষিখাতে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১২ লাখ প্রান্তিক কৃষকের ঋণ ও সুদ মওকুফ করা হয়েছে এবং ১৩ লাখ কৃষক পরিবারের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানী ভাতা, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, রমজান ও ঈদে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং শ্রমিকদের বেতন-বোনাস নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অর্জন বলে তিনি দাবি করেন। তার দাবি, প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের কৃষিঋণ ও সংশ্লিষ্ট সুদ মওকুফের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সময়ে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে এসব উন্নয়ন হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যয়সংযমের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে গৃহীত উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে হেলথ কার্ড, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, প্রয়োজনীয় ওষুধের সহজলভ্যতা, শিক্ষা কারিকুলামে পরিবর্তন, মেয়েদের স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং স্কুলে মিড-ডে মিল কর্মসূচি। পরিবেশ ও জলবায়ু সুরক্ষায় পৃথক বাজেট, নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিস্তার ও নদী পুনঃখননের মতো কর্মসূচিকেও সরকারের বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের সভাপতি নাছিম আহমদের সভাপতিত্বে এই সভায় আমেরিকা বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট জাকির এইচ চৌধুরী, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ আলী খান ও সিনিয়র সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন মঞ্জুসহ অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি উপস্থিত ছিলেন।