সার্বভৌমত্বের নতুন বাস্তবতা
ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী সম্প্রতি এক বক্তব্যে বাংলাদেশকে একটি প্রাণবন্ত, সার্বভৌম ও স্বাধীন দেশ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ১৯৭১ সাল থেকেই বাংলাদেশ তার সার্বভৌমত্বের অধিকারী। তবে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এই সার্বভৌমত্বের বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। এখন বাংলাদেশ আর ভারতের দিকে তাকিয়ে নিজের অবস্থান নির্ধারণ করে না; বরং বাংলাদেশ কী চায় এবং জাতীয় স্বার্থে কী প্রয়োজন, সেটিই এখন মূল আলোচনার বিষয়।
সম্পর্কের নতুন সমীকরণ
দিনেশ ত্রিবেদী দুই দেশের সম্পর্ককে একটি পরিবারের মতো বলে উল্লেখ করেছেন এবং পারস্পরিক উন্নয়নের জন্য একে অপরের ওপর নির্ভরশীলতার কথা বলেছেন। তবে এই সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছু মৌলিক বিষয় স্পষ্ট হওয়া জরুরি
- পরিবারে মর্যাদা কেবল আকার বা বয়স দিয়ে নির্ধারিত হয় না।
- ভারত বড় অর্থনীতি হলেও বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম।
- উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ এবং চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের কৌশলগত অবস্থান বাংলাদেশের জন্য বড় শক্তি।
- সম্পর্কটি কোনো দয়া বা অনুগ্রহের নয়, বরং পারস্পরিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি কার্যকর ও স্থিতিশীল অংশীদারত্ব।
সীমান্ত ও নদী ব্যবস্থাপনা
দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পখাতে একে অপরের পরিপূরক হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও অভিন্ন নদী নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট
- সীমান্তে চোরাচালান বা অপরাধ দমনের নামে বাংলাদেশি নাগরিকদের জীবন তুচ্ছ হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
- তিস্তা ও গঙ্গার মতো অভিন্ন নদীর পানি কোনো সৌজন্যমূলক উপহার নয়, বরং এটি বাংলাদেশের জীবনব্যবস্থা ও অর্থনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
- নদীর পানি বণ্টন ও ব্যবস্থাপনায় ন্যায্যতা নিশ্চিত করা বাংলাদেশের অধিকার।
- ‘ভারত কী দেবে’—এই মানসিকতার পরিবর্তে দুই দেশ কীভাবে অভিন্ন নদীগুলোকে টেকসইভাবে ব্যবস্থাপনা করবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা ও ভবিষ্যৎ
দিনেশ ত্রিবেদী মহাত্মা গান্ধীর উদ্ধৃতি দিয়ে সাধারণ মানুষের কথা ভাবার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে বাংলাদেশ এখন আর দিল্লির উপদেশের অপেক্ষায় নেই। বাংলাদেশের কৃষক, ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও তরুণরা তাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সচেতন। কোনো নেতার গ্রহণযোগ্যতা বা রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষমতা অন্য কোনো দেশের থাকা উচিত নয়। বাংলাদেশের জনগণের ভোটের মাধ্যমেই তাদের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারিত হবে। ভারত বা অন্য কোনো প্রতিবেশী দেশের অভিভাবকত্ব বাংলাদেশের জনগণের সিদ্ধান্তের ওপর থাকতে পারে না। এই নতুন বাস্তবতাকে ভারত কতটা গভীরভাবে গ্রহণ করতে পারছে, সেটিই এখন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি বিষয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী আজ যে কথাগুলো বলেছেন, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাক্যটি সম্ভবত একটিই—“Bangladesh is a vibrant, sovereign & independent country। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: We are all equals, and we have to work on that footing.”। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু এর চেয়েও ভালো লাগার বিষয় হলো, শেষ পর্যন্ত ভারতীয় কূটনীতিককেই এখন এসে বলতে হচ্ছে—কেউ বড় নয়, কেউ ছোট নয়, আমরা সবাই সমান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কারণ বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের পুরোনো কাঠামোটা আর আগের জায়গায় নেই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় চিন্তাও বদলেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একটা সময় ছিল, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হলেই যেন ধরে নেওয়া হতো, ভারত কী চায় সেটাই আসল প্রশ্ন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দিল্লি কী ভাবছে, ভারত কী বলছে, ভারত কোন অবস্থান নেবে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক কতটা উষ্ণ থাকবে—এসব দিয়েই বাংলাদেশের কূটনৈতিক কথাবার্তার বড় অংশ ব্যাখ্যা করা হতো।

