ফ্যাসিবাদ যেন কোনোভাবেই পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় আমরা যেন নিজেরাও ফ্যাসিস্ট হয়ে না উঠি, তা নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর রোডম্যাপ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর হোটেল শেরাটনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ইনস্টিটিউট অব হযরত মোহাম্মদ (সা.) কর্তৃক আয়োজিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী জুলাই বিপ্লবের ভয়াবহতার স্মৃতিচারণ করে বলেন, সেই সময় মাত্র ২০ দিনের ব্যবধানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এই সহিংসতায় প্রায় ৩০০ জন হাত, পা কিংবা মাথা হারিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। তিনি আরও বলেন, মানুষের মুখোশধারী কিছু ব্যক্তি রাতের অন্ধকারে ক্রসফায়ারের নামে অমানবিক হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে, যার ফলে এখনো অনেক পরিবার তাদের স্বজনদের নিখোঁজ তালিকায় খুঁজছে।
ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের অপচেষ্টাকারীদের সতর্ক করে মন্ত্রী বলেন, যারা এখনো ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনে সক্রিয়, তাদের চোখ খুলে বাস্তবতাকে দেখার আহ্বান জানাই। সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দেশের নাগরিক হিসেবে অন্যায় ও অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া প্রত্যেকের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনকালে ভুল হতে পারে, তবে সেই ভুল শুধরে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়াই প্রকৃত দেশপ্রেম।
ইনস্টিটিউট অব হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর মানবিক কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করে আইনমন্ত্রী বলেন, অন্ধকে আলো দেখানো বা পিছিয়ে পড়া মানুষকে স্বাবলম্বী করে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেওয়া অত্যন্ত মহৎ কাজ। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের পাশাপাশি তিন বছর ধরে তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের প্রতিভা বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে হবে যেখানে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত থাকবে।
প্রতিযোগিতার আয়োজকরা জানান, সারা দেশ থেকে বিভিন্ন বয়সের শিক্ষার্থীরা পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, হামদ-নাত এবং রচনা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। এ বছর প্রতিযোগিতার মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষা’।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ফয়েজ আহমেদ, ইনস্টিটিউট অব হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর সভাপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) এম নুরউদ্দিন খান, ইরান দূতাবাসের প্রথম কাউন্সেলর এসরাফিল আমিরি গোর্জাদ্দিনি, ঢাকা ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওসমান এরশাদ ফয়েজ এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনামুল হক। চাকরির আরও তথ্য: ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘‘জুলাই বিপ্লবের সময় ২০ দিনে পাখির মতো গুলি করে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষকে রাস্তায় হত্যা করা হয়েছে। চাকরির আরও তথ্য: প্রায় ৩০০ মানুষ হাত হারিয়েছেন, কেউ পা হারিয়েছেন, কেউ মাথা হারিয়েছেন।’’। চাকরির আরও তথ্য: সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার কাজে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘‘আসুন, একসঙ্গে হাঁটি, একসঙ্গে চলি। চাকরির আরও তথ্য: তারাও মানুষ, তাদেরও অধিকার রয়েছে।’’। চাকরির আরও তথ্য: আসাদুজ্জামান বলেন, ‘‘নীরবে-নিভৃতে প্রতিষ্ঠানটি একটি শ্রেণির মানুষকে স্বাবলম্বী করে, মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। চাকরির আরও তথ্য: কারও ভাই, কারও বোন, কারও মা, কারও স্বামী এখনো নিখোঁজ। চাকরির আরও তথ্য: আমরা যদি অপরাধ করি, আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিন। চাকরির আরও তথ্য: যারা ফ্যাসিস্টদের খুন-খারাপি দেখছেন না, তাদের বলব আপনারা চোখ খুলুন।

