ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আসন্ন বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লির বেশ কিছু এলাকায় ২৪ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার রাত ১০টা থেকে শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত জনপথ ও কর্তব্য পথ মোড়কে কেন্দ্র করে চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। টেলিযোগাযোগ আইন ২০২৩ ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আওতায় এয়ারটেল, ভোডাফোন-আইডিয়া, জিও ও এমটিএনএল-এর মতো পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই নির্দেশনা পালন করতে বলা হয়েছে। এর আগে জুলাই মাসে এনইইটি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে যন্তর মন্তরে সিজেপির বিক্ষোভের সময়ও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল, তবে এবারের নিষেধাজ্ঞার আওতা দেড় কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে চার কিলোমিটার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্বাভাবিকতা বজায় রাখতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় জারি করা নির্দেশে এয়ারটেল, ভোডাফোন-আইডিয়া, জিও ও এমটিএনএলকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছে দিল্লি পুলিশ।
বিক্ষোভের কারণে জনজীবন ও যাতায়াত ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। শুক্রবার রাত ৯টা থেকে রাজীব চক, নয়াদিল্লি, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, প্যাটেল চক ও কাশ্মীরি গেটসহ মোট ৫৭টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার গেট বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাহত হচ্ছে ট্রেন চলাচল। শনিবার ভোর ৪টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছানোর কথা ছিল এমন ৬০টির বেশি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।
এই বিধিনিষেধ নিয়ে ইতিমধ্যে উদ্বেগ জানিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। আদালত মন্তব্য করেছে যে, কোনো সমস্যা সমাধানে এমন অতিরিক্ত কড়াকড়ি বা ‘মাছি মারতে হাতুড়ি’ ব্যবহারের মতো পদক্ষেপ যথাযথ নয়। বর্তমানে দিল্লির কনট প্লেস, মান্ডি হাউস, প্রগতি ময়দান, গুরুদ্বার বাংলা সাহিব, বারাখাম্বা রোড, খান মার্কেট, লোধি রোড এবং জংপুরার কিছু অংশ এই নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিক্ষোভ ঘিরে ইন্টারনেট, মেট্রো স্টেশন ও ট্রেন চলাচল বন্ধের এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজধানীজুড়ে যাতায়াত ব্যবস্থায় স্থবিরতা তৈরির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ ঘিরে এ পদক্ষেপ এমন সময় নেয়া হলো, যখন দিল্লি মেট্রো ও রাজধানীমুখী ট্রেন চলাচলে বিধিনিষেধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। এতে বিক্ষোভকারীদের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবে প্রকাশ করতে সমস্যা হয়।

