দীর্ঘ ৪৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে অ্যাস্টন ভিলা। উয়েফা ইউরোপা লিগের সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে নটিংহ্যাম ফরেস্টকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করে উনাই এমেরির শিষ্যরা। প্রথম লেগে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকলেও, ঘরের মাঠে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ৪-১ গোলের সামগ্রিক ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেছে ইংলিশ ক্লাবটি। আগামী ২০ মে ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালে ভিলার প্রতিপক্ষ জার্মান ক্লাব ফ্রাইবুর্গ, যারা ব্রাগাকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো কোনো ইউরোপীয় ফাইনালের টিকিট পেয়েছে।
ম্যাচটি উপভোগ করতে ভিলা পার্কে উপস্থিত ছিলেন প্রিন্স উইলিয়াম। ১৯৯৬ সালের লিগ কাপের পর এটিই ভিলার প্রথম বড় কোনো শিরোপা জয়ের সুযোগ। ক্লাবটি তাদের সর্বশেষ বড় মহাদেশীয় সাফল্য পেয়েছিল ১৯৮২ সালে, যখন পিটার উইথের গোলে তারা বায়ার্ন মিউনিখকে হারিয়ে ইউরোপিয়ান কাপ জিতেছিল। ২০২০ সালের লিগ কাপের পর এটি ভিলার প্রথম ফাইনাল। উনাই এমেরির জন্য এটি ষষ্ঠ ইউরোপা লিগ ফাইনাল, যিনি এর আগে সেভিয়া ও ভিয়ারিয়ালের হয়ে শিরোপা জিতেছেন এবং আর্সেনালের হয়ে রানার্স-আপ হয়েছেন।
২০২২ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর এমেরি ভিলাকে রেলিগেশন জোন থেকে টেনে তুলেছেন। বর্তমানে প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলে পঞ্চম স্থানে থাকা ভিলা চ্যাম্পিয়নস লিগের দৌড়েও রয়েছে। তবে ইউরোপা লিগ জয় তাদের জন্য শিরোপা খরা কাটানোর বড় সুযোগ। গত মৌসুমে কনফারেন্স লিগ ও এফএ কাপের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া ভিলা এবার সেই ‘প্রায় জয়ী’ তকমা ঝেড়ে ফেলতে মরিয়া।
অন্যদিকে, নটিংহ্যাম ফরেস্টের জন্য এটি ছিল এক বেদনাদায়ক সমাপ্তি। ১৯৮০ সালের পর প্রথমবারের মতো ইউরোপীয় ফাইনালে ওঠার স্বপ্নভঙ্গ হওয়ায় তাদের ৩৬ বছরের শিরোপা খরা অব্যাহত থাকল। ফরেস্ট টানা ১০ ম্যাচ অপরাজিত থেকে মাঠে নামলেও, ভিলার কাছে পাত্তাই পায়নি। ইনজুরির কারণে মর্গান গিবস-হোয়াইট বেঞ্চে থাকায় ফরেস্টের আক্রমণভাগ ছিল বেশ দুর্বল।
ম্যাচের শুরুতেই ওমারি হাচিনসনের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তবে দ্রুতই ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ নেয় ভিলা। পাউ তোরেসের হেড ফরেস্ট গোলরক্ষক স্টেফান ওর্তেগা কোনোমতে প্রতিহত করেন। এরপর এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়ার শটও রুখে দেন ওর্তেগা। ৩৬তম মিনিটে অলি ওয়াটকিনসের গোলে এগিয়ে যায় ভিলা। এর কিছুক্ষণ আগে সংঘর্ষে মাথায় ব্যান্ডেজ নিয়ে খেলা ওয়াটকিনস বুয়েন্দিয়ার দারুণ পাস থেকে গোলটি করেন।
দ্বিতীয়ার্ধে ভিলার আধিপত্য আরও স্পষ্ট হয়। ৫৮তম মিনিটে নিকোলা মিলেনকোভিচ তোরেসের জার্সি টেনে ধরলে পেনাল্টি পায় ভিলা। ভিএআর চেক শেষে বুয়েন্দিয়া শান্তভাবে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এরপর ক্রিস উডের একটি প্রচেষ্টা রুখে দেন ভিলা গোলরক্ষক মার্টিনেজ।
ম্যাচের শেষ দিকে অধিনায়ক জন ম্যাকগিন জোড়া গোল করে ফরেস্টের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন। ৭৭তম মিনিটে ওয়াটকিনসের ফ্লিক থেকে ম্যাকগিন দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করেন। তিন মিনিট পর আবারও গোল করে ভিলা পার্ককে আনন্দে ভাসান এই স্কটিশ মিডফিল্ডার।
এই জয় ভিলার জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ৪৪ বছর পর ইউরোপীয় ফাইনালে ওঠা ক্লাবটির জন্য এখন লক্ষ্য ফ্রাইবুর্গকে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তোলা। বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ১৯৮২ সালের সেই জয়ের পুনরাবৃত্তি করতে উন্মুখ হয়ে আছে পুরো ভিলা সমর্থক গোষ্ঠী।
ইস্তাম্বুলের ফাইনালটি এখন ভিলার জন্য কেবল একটি ম্যাচ নয়, বরং ক্লাবের গৌরব পুনরুদ্ধারের লড়াই। এমেরির ট্যাকটিক্যাল মাস্টারক্লাস এবং খেলোয়াড়দের অদম্য মানসিকতা তাদের এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। এখন দেখার বিষয়, ২০ মে তারা শিরোপা উঁচিয়ে ধরতে পারে কি না।

