উয়েফা নেশন্স লিগে শুক্রবার রাতে তুরস্ককে ৩-০ গোলে হারিয়ে সহজ জয় তুলে নিয়েছে বেলজিয়াম। দলের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে জোড়া গোল করেছেন তারকা মিডফিল্ডার কেভিন ডি ব্রুইনে। একই রাতে অন্য এক হাইভোল্টেজ ম্যাচে ইতালির মুখোমুখি হয়েছিল ফ্রান্স, তবে ম্যাচটি ১-১ গোলের সমতায় শেষ হয়েছে। ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের কোচ হিসেবে ঘরের মাঠে এটিই ছিল প্রথম ম্যাচ।
বেলজিয়ামের জার্সিতে নিজের ১২৭তম ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন নাপোলি মিডফিল্ডার কেভিন ডি ব্রুইনে। ম্যাচের শুরুতেই ডডি লুকেবাকিওর সঙ্গে চমৎকার এক ‘ওয়ান-টু’ খেলে বেলজিয়ামের হয়ে প্রথম গোলটি আদায় করেন তিনি। ডি-বক্সের একদম প্রান্ত থেকে নেয়া তার নিখুঁত শটটি সহজেই প্রতিপক্ষের জাল খুঁজে নেয়।
ডি ব্রুইনের এই শুরুর গোলের পর বেলজিয়াম বেশ কিছু আক্রমণ চালালেও ব্যবধান বাড়াতে পারছিল না। তবে তুরস্ক এই সময়ে সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে এবং বেশ কিছু আক্রমণাত্মক সুযোগ তৈরি করে। কিন্তু বেলজিয়ামের লিয়েজ শহরের এই মাঠে তুরস্কের ফুটবলাররা তাদের সমস্ত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও কোনো গোল আদায় করতে পারেনি।
তুরস্ক যখন ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করছিল, ঠিক তখনই ডি ব্রুইনে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন। ডি-বক্সের বাইরে থেকে দারুণ এক বাঁকানো শটে তুরস্কের গোলরক্ষক উগুরচান চাকিরকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান তিনি। ম্যাচে এরপর বদলি হিসেবে মাঠে নামা রোমেলু লুকাকু দলের তৃতীয় গোলটি করেন। চার্লস ডি কেটেলারের একটি নিচু ক্রস থেকে তিনি লক্ষ্যভেদ করতে সফল হন।
নিজের অসাধারণ ফর্ম ও নেতৃত্ব প্রসঙ্গে ডি ব্রুইনে বলেন, “আমি তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য উদাহরণ তৈরি করে নেতৃত্ব দিতে চাই, যাতে তারা অনায়াসে আমাকে অনুসরণ করতে পারে। আমি মনে করি এখনও দলে অবদান রাখার সামর্থ্য আমার আছে। আমি খেলাটি উপভোগ করছি এবং এটিই সবচেয়ে বড় বিষয়।”
বেলজিয়ামের কোচ মার্ক ফন বমেল ডি ব্রুইনের প্রশংসা করে বলেন, “কেভিন সবসময় খেলতে চায়। ইতালি, ফ্রান্স বা আজকের ম্যাচ হোক, সে বর্তমানে দারুণ ছন্দে রয়েছে এবং তার খেলা গোল করার আনন্দের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পাচ্ছে। ৩-০ গোলের এই জয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। মাঝেমধ্যে বলের দখল হারানোর কারণে প্রতিপক্ষ কিছু সুযোগ পেয়েছিল, তবে ম্যাচটি কখনই আমাদের হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকিতে ছিল না।”
এদিকে অন্য ম্যাচে বায়ার্ন মিউনিখ তারকা মাইকেল অলিসে ফ্রি-কিক থেকে দুর্দান্ত এক গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে নিয়েছিলেন। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ইন্টার মিলানের ডিফেন্ডার আলেসান্দ্রো বাস্তোনি ইতালির হয়ে সমতাসূচক গোলটি করেন। ম্যাচের শেষ দিকে ফরাসি ডিফেন্ডার দায়োত উপামেকানো লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়েন। এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপ এ১-এ ফ্রান্স ৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে এবং বেলজিয়াম ৬ পয়েন্ট নিয়ে তাদের ঠিক পেছনে অবস্থান করছে।
ফরাসি কোচ জিনেদিন জিদানের হোম ম্যাচ ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ
- জিদানের প্রত্যাবর্তন: ২০০৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের পর এই প্রথম ঘরের মাঠে স্টাড ডি ফ্রান্সে ফিরলেন জিদান, যেখানে দর্শক উপস্থিতি ছিল ৭৭,১১৮ জন। সাবেক এই রিয়াল মাদ্রিদ প্লেমেকার শেষবার ২০০৬ সালের মে মাসে মেক্সিকোর বিপক্ষে খেলেছিলেন।
- জিদানের মন্তব্য: “আমাদের সমর্থকদের জন্য ম্যাচটি জিততে পারলে দারুণ হতো, তবে স্টাড ডি ফ্রান্সে ফিরতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত ও আবেগাপ্লুত।”
- এমবাপ্পের অনুপস্থিতি: রিয়াল মাদ্রিদ স্ট্রাইকার ও ফ্রান্স দলের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে হাঁটুতে চোটের কারণে এই ম্যাচে দলে ছিলেন না।
- ইতালির পুনর্গঠন: কোচ রবার্তো মানচিনির অধীনে ইতালি নতুনভাবে দল গুছিয়ে নিচ্ছে, যারা গত তিনটি বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে। মানচিনি ম্যাচ শেষে বলেন, “বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের বিরুদ্ধে আমাদের খেলোয়াড়রা দারুণ পারফর্ম করেছে এবং আমরা সঠিক পথেই আছি।”

