পাবনায় প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহৃত মো. কারিবুরকে উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। গত ১৪ অক্টোবর বুধবার তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো অভিযানে তাকে উদ্ধার করা হয়। একইসঙ্গে অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারী এক দম্পতিসহ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে অপহরণকাজে ব্যবহৃত একটি অটোরিকশা এবং চার হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারী এক দম্পতিসহ চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- পাবনা সদর উপজেলার পূর্ব কায়েমকোলা এলাকার বাসিন্দা পলি খাতুন ও তার স্বামী মো. জামাল হোসেন (৪৩) এবং একই উপজেলার মহাদেবপুর এলাকার মো. উকিল সর্দার (৪৩)। পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী কারিবুর গত ১৪ অক্টোবর সকালে নিজের মোবাইল ফোন মেরামতের জন্য বাড়ি থেকে বের হন। এরপর দুপুর ১টার দিকে তিনি ছেলের মোবাইলে কল করে জানান, শহরের শাপলা প্লাস্টিক মোড় থেকে তাকে অপহরণ করা হয়েছে। মুক্তিপণ হিসেবে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে এবং টাকা না দিলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগীর ছেলে কামরুল মন্ডল তার বাবার সন্ধান না পেয়ে পাবনা সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ অভিযানে নেমে পাবনা থানার শ্রীপুর বাজার এলাকা থেকে কারিবুরকে উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকেই অপহরণের অভিযোগে দুজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে ধারাবাহিক অভিযানে মূল পরিকল্পনাকারী ও হানি ট্র্যাপে সহায়তাকারী পলি খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় ভিকটিমের ছেলে কামরুল মন্ডল (২৬ ) সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও বাবার সন্ধান না পেয়ে পাবনা সদর থানায় এজাহার দায়ের করেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, পলি খাতুনকে দিয়ে প্রায় ১৫ দিন ধরে মোবাইল ফোনে কথা বলিয়ে কারিবুরকে প্রেমের ফাঁদে ফেলা হয়। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৪ অক্টোবর তাকে শাপলা প্লাস্টিক মোড়ে দেখা করতে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক অটোরিকশায় তুলে অপহরণ করা হয়। বিভিন্ন স্থানে ঘোরানোর পর শ্রীপুর বাজারের একটি বিকাশের দোকান থেকে নম্বর সংগ্রহ করে মুক্তিপণের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস ছালাম জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পাবনা সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া চলছে। সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া সহযোগীরা তাকে জোর করে একটি অটোরিক্সায় তুলে অপহরণ করে এবং বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ঘোরাতে থাকে।

