প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যমান মিড-ডে মিল ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই কর্মসূচিতে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধের লক্ষ্যে সরকার এখন ‘কুপন পদ্ধতি’ চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। শনিবার রাজধানীর মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানান, প্রস্তাব অনুযায়ী প্রতিটি শিশুকে ৩৮ টাকা ৫০ পয়সার একটি কুপন দেওয়া হবে। এই কুপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা স্থানীয় পর্যায়ে তালিকাভুক্ত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তাদের পছন্দের খাবার কিনতে পারবে। শিক্ষামন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন যে, কোনো শিক্ষার্থী যদি তালিকাভুক্ত ব্যবসায়ীর কাছে নিজেদের পছন্দমতো খাবার খুঁজে না পায়, তবে সে ক্ষেত্রে কুপনের অর্থ ওই শিক্ষার্থীর কাছেই সংরক্ষিত থাকবে। এই পরিকল্পনাটি বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট মহলে বিস্তারিত আলোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে মন্ত্রণালয়। এছাড়া সক্ষমতা বিবেচনা করে স্থানীয় খাদ্য ব্যবসায়ীদের তালিকাভুক্ত করা হবে বলেও তিনি জানান।
একই অনুষ্ঠানে বিনামূল্যে বিতরণের পাঠ্যবই নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানান ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের হাতে মানসম্মত বই তুলে দিতে সরকার ৫টি স্তরে মান যাচাই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এরই মধ্যে নিম্নমানের কাগজের কারণে প্রায় ৩০ লাখ বই কেটে বিনষ্ট করা হয়েছে। এরপরও কোনো প্রিন্টার্স যদি মানহীন বই সরবরাহের চেষ্টা করে এবং তা শিক্ষার্থীর হাতে পৌঁছায়, তবে সেই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে মন্ত্রী হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, ৫ স্তরে বইয়ের মান যাচাই করা হচ্ছে।

