প্রেক্ষাপট: গাইবান্ধার হরিদাস ফ্ল্যাট প্রতারণার মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে

ফ্ল্যাট দেওয়ার নামে প্রায় ৭৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা প্রতারণার মামলায় দুই দিনের রিমান্ড শেষে হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উঁচু রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে তিনি বেশ আলোচনায় এসেছিলেন। সোমবার রিমান্ড শেষ হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানা তাঁকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক হেলাল উদ্দিন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার পটভূমি ও বিস্তারিত

  • ১০ সেপ্টেম্বর আদালত হরিদাসের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।
  • গত ২৪ আগস্ট বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বাদী হয়ে হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস ও ওবায়দুল ইসলাম নামের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় প্রতারণার মামলাটি দায়ের করেন।
  • মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে, ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বাদী মাহবুবুর রহমানের কাছ থেকে ৭৫ লাখ ৮৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন আসামিরা।
  • এর আগে গত ১২ জুলাই ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অর্থ পাচারের অভিযোগে হরিদাসসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের এসআই সাইফুল ইসলাম উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।
  • ওই পাচার মামলার জের ধরে ১২ জুলাই রাতে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার একটি মন্দির এলাকা থেকে হরিদাসকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। সেই মামলায় ১৬ জুলাই তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয় এবং এরপর থেকেই তিনি কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, আলোচিত ফ্ল্যাট প্রতারণার এই মামলায় হরিদাস ছাড়া ওবায়দুল ইসলাম নামে আরও এক আসামি রয়েছেন। তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড শেষে আদালতকে জানিয়েছেন, মামলাটির তদন্ত চলমান এবং আসামিকে জেলহাজতে রাখা প্রয়োজন। বিচারক সব পক্ষের শুনানি শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।