রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত ইতিহাসের ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। আগামী ৭ অক্টোবর এই গুরুত্বপূর্ণ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে ঘোষণা এসেছে। একই আদেশে ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছে, মামলায় পলাতক থাকা শেখ হাসিনাসহ ৩০ জন আসামির পক্ষে আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্টেট ডিফেন্স বা রাষ্ট্রীয় আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হবে।
ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ ও ব্যাখ্যা তলব
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বেঞ্চ এই নির্দেশ প্রদান করেছেন। এই বেঞ্চের অন্যান্য সম্মানিত বিচারকরা হলেন মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। শুনানির পাশাপাশি ট্রাইব্যুনাল একটি বিশেষ নির্দেশনায় জানিয়েছে, আদালতের রায়কে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘ক্যাঙারু কোর্টের রায়’ হিসেবে মন্তব্য করায় সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী হাসানুজ্জামান তুষার ও হাসান চৌধুরীকে তলব করা হয়েছে। তাদের আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে নিজ মন্তব্যের ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে হাজিরা
এই আইনি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বুধবার সকালে কড়া নিরাপত্তা ও প্রিজনভ্যানের মাধ্যমে গ্রেপ্তার ১১ জন আসামিকে ট্রাইব্যুনালে নিয়ে আসা হয়। হাজিরা দেওয়া এই ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, ডা. দীপু মনি, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক ও সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু। এছাড়া সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক এবং পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল জলিল মণ্ডলসহ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। চাকরির আরও তথ্য: এদিন সকালে কারাগার থেকে কড়া পুলিশি পাহারায় প্রিজনভ্যানে করে গ্রেপ্তার ১১ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
অভিযোগের বিবরণ ও আইনি পটভূমি
- ২০১৩ সালের ৫ মে রাতে শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে ৩২ জনের মৃত্যুর বিষয়টি প্রথম অভিযোগে গুরুত্ব পেয়েছে।
- পরবর্তী ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও ২০ জনের মৃত্যু ও সহিংসতা দ্বিতীয় অভিযোগের অন্তর্ভুক্ত।
- গত ২৭ জুলাই প্রসিকিউশনের দাখিল করা সকল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনাল-২ আমলে গ্রহণ করেছিল।
- পূর্বের নির্দেশ অনুযায়ী, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল এবং জাতীয় সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে তাদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়েছিল।

