ফিফার কঠোর নিষেধাজ্ঞা: ১০ ম্যাচ নিষিদ্ধ পারেদেস, বড় অঙ্কের জরিমানা আর্জেন্টিনার

২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনাল পরবর্তী অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষ এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে আর্জেন্টিনার তিন ফুটবলারকে কঠোর শাস্তি দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় শাস্তি পেয়েছেন মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস, যাকে ১০ ম্যাচের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাইট-ব্যাক নাহুয়েল মলিনাকে ৭ ম্যাচ এবং আরেক মিডফিল্ডার থিয়াগো আলমাদাকে ১ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফিফার প্রতিবেদন অনুযায়ী, পারেদেস এরিক গার্সিয়ার টুঁটি চেপে ধরা এবং গাভিকে মাটিতে ফেলে মুখে আঘাত করার মতো গুরুতর অসদাচরণ করেছেন। অন্যদিকে, রদ্রিকে ঘুষি মারার দায়ে মলিনা এই শাস্তির কবলে পড়েছেন।

খেলোয়াড়দের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (এএফএ) ৩ লাখ ২১ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা। মূলত খেলার মাঠে অসদাচরণ, সমর্থকদের বৈষম্যমূলক স্লোগান এবং খেলাবহির্ভূত রাজনৈতিক প্রদর্শনের কারণে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জরিমানার অর্থের মধ্যে ১ লক্ষ ডলার বৈষম্যবিরোধী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পারেদেস ও মলিনার প্রত্যেককে ৯০ হাজার ডলার (প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা) এবং আলমাদাকে ৩০ হাজার ডলার (প্রায় ৩৭ লাখ টাকা) জরিমানা করা হয়েছে।

আর্জেন্টিনার কোচিং স্টাফের সদস্য রবার্তো আয়ালাকেও ছাড় দেয়নি ফিফা। দানি ওলমোর মুখে আঘাত করার দায়ে তাকে ৩ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ও ৩০ হাজার ডলার (প্রায় ৩৭ লাখ টাকা) জরিমানা করা হয়েছে। এদিকে স্পেনের তরুণ তারকা গাভিও ১ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছেন, যার ফলে আগামী ২৬শে সেপ্টেম্বর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ন্যাশনস লীগের ম্যাচে তিনি খেলতে পারবেন না। এছাড়া আর্জেন্টিনাকে তাদের ঘরের মাঠে পরবর্তী দুটি ম্যাচ স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতার অর্ধেক দর্শকের সামনে আয়োজন করতে হবে।

আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আগামী বছরের জুন পর্যন্ত আর্জেন্টিনার মোট ১০টি ম্যাচ রয়েছে। যেহেতু এই সময়ে কোনো বড় প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্ট নেই, তাই সবগুলো ম্যাচই প্রীতি ম্যাচ হিসেবে গণ্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এই ম্যাচগুলোতেই খেলোয়াড়দের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। এএফএ এই শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে এবং প্রয়োজনে তারা কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টস (সিএএস)-এর দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। উল্লেখ্য, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে জয়ের পর ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব দাবি করে ব্যানার প্রদর্শন এবং ফাইনাল হারের পর মেটলাইফ স্টেডিয়ামে হাতাহাতির ঘটনাগুলো ফিফার এই কঠোর সিদ্ধান্তের পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরপর স্পেনের কাছে ১-০ গোলে ফাইনাল হারের পর মেটলাইফ স্টেডিয়ামে দুই দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।