অস্কারজয়ী মার্কিন অভিনেত্রী সুসান সারান্ডন দাবি করেছেন যে, ফিলিস্তিনের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়া এবং গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করার কারণে তিনি হলিউডে নিয়মিত কাজ হারাচ্ছেন। ৭৯ বছর বয়সি এই অভিনেত্রী জানান, হলিউডের প্রভাবশালী কিছু ট্যালেন্ট এজেন্সি এখনো প্রযোজকদের তাকে নতুন কোনো প্রজেক্টে নিয়োগ না দেওয়ার জন্য প্ররোচিত করছে। রোববার ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের নতুন সিনেমা ‘দ্য ইকো চেম্বার’-এর প্রচারণায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ তোলেন।
সারান্ডন জানান, সাম্প্রতিককালেও তাকে বিভিন্ন কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে হলিউডের বড় স্টুডিওগুলোর বাইরের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি নিজেকে অনেক বেশি স্বাগত ও গ্রহণযোগ্য মনে করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, তার নতুন সিনেমার পরিচালক আন্দ্রেয়া পাল্লাওরো তাকে শিল্পী হিসেবে নির্বাচন করার সময় হলিউডের শিল্পাঙ্গন থেকে আসা বিভিন্ন সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছেন। সারান্ডনের মতে, গাজা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার বিষয়টি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি মানুষ বুঝতে পারছেন।
এর আগেও ফিলিস্তিনপন্থি অবস্থানের কারণে সারান্ডন পেশাগতভাবে বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছেন। ২০২৩ সালের নভেম্বরে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত একটি সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যের জেরে তার তৎকালীন এজেন্সি ‘ইউনাইটেড ট্যালেন্ট এজেন্সি’ (ইউটিএ) তাকে ক্লায়েন্ট তালিকা থেকে বাদ দেয়। ওই বক্তব্যের কিছু অংশ নিয়ে তীব্র সমালোচনা তৈরি হলে সারান্ডন পরে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং স্বীকার করেন যে, তার ব্যবহৃত শব্দগুলো ভুল ও অনুপযুক্ত ছিল।
দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি, যুদ্ধ এবং মানবাধিকারের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সোচ্চার সারান্ডন গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ফিলিস্তিনের পক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করছেন। হলিউডে তার মতো আরও অনেক শিল্পী ইসরাইল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে পেশাগত বৈষম্যের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। তবে সারান্ডন তার রাজনৈতিক ও মানবিক বিশ্বাস থেকে সরে আসার চেয়ে নিজের অবস্থানে অটল থাকাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
বর্তমানে তিনি ইউরোপীয় চলচ্চিত্রে মনোনিবেশ করেছেন। ইতালীয় পরিচালক আন্দ্রেয়া পাল্লাওরোর ‘দ্য ইকো চেম্বার’ সিনেমায় তিনি একজন বয়স্ক সংগীতশিল্পীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যেখানে তার সহশিল্পী হিসেবে রয়েছেন অ্যালিসিয়া ভিকান্ডার ও লুকা মারিনেল্লি। দ্য গার্ডিয়ান, রয়টার্স ও দ্য ওয়ার্পের তথ্যানুযায়ী, হলিউডে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ না হয়ে বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাওয়া সমর্থনকেই তিনি বড় করে দেখছেন।

