ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন ও সংহতি প্রকাশের অংশ হিসেবে মার্কিন র্যাপার ম্যাকলেমোর ঘোষণা দিয়েছেন যে, এড শিরানের ‘লুপ’ ট্যুর থেকে পাওয়া তার সম্পূর্ণ ১০ লাখ ডলারের নিট আয় তিনি ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় কাজ করা ছয়টি সংস্থাকে প্রদান করবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের দীর্ঘ বার্তায় তিনি দাবি করেন, ফিলিস্তিনিরা দীর্ঘ সময় ধরে মৌলিক অধিকারহীন জীবনযাপন করছে এবং তাদের মুক্তির জন্য আর দীর্ঘ প্রতীক্ষা কাম্য নয়। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তার মনোযোগ ফিলিস্তিনিদের এই দীর্ঘ লড়াইয়ের দিকেই থাকবে। একই সঙ্গে তিনি নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের মালিক ও গিলেট স্টেডিয়ামের স্বত্বাধিকারী রবার্ট ক্রাফটকে এই অনুদানের সমপরিমাণ অর্থ দিয়ে ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, মতপার্থক্য থাকলেও মানুষ হিসেবে ফিলিস্তিনিদের জীবনের মূল্য কোনো অংশেই কম নয়, এই সত্যে সকলের একমত হওয়া প্রয়োজন।
ম্যাকলেমোরের এই অনুদান ঘোষণার নেপথ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক এক বিতর্কিত পরিস্থিতির প্রভাব। গত ৪ সেপ্টেম্বর নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে পারফর্ম করার সময় তিনি ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান উচ্চারণ করেন এবং গাজা ও পশ্চিম তীরের বাসিন্দাদের দুর্ভোগের বিষয়টি সামনে নিয়ে আসেন। তার এই অবস্থানের পর ইসরাইলি-আমেরিকান কাউন্সিল তাকে ট্যুর থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়ে পিটিশন দায়ের করে। পরবর্তী সময়ে মঞ্চে দেওয়া বক্তব্যে ম্যাকলেমোর নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, ইসরাইলের সমালোচনা বা ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কথা বলা মানে কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা নয়; বরং তার বার্তা শান্তি, মানবিক মর্যাদা ও সমতার পক্ষে।
তবে এই ঘটনার পরপরই এড শিরানের উত্তর আমেরিকা সফরের পরবর্তী অংশ থেকে ম্যাকলেমোরকে বাদ দেওয়া হয়। শিরান এক বিবৃতিতে জানান, এই সিদ্ধান্তটি তিনি একাই নেননি। রবার্ট ক্রাফটসহ কয়েকজন স্টেডিয়াম মালিক সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, ম্যাকলেমোর যদি ওপেনিং অ্যাক্ট হিসেবে থাকেন তবে তাদের স্টেডিয়ামে ট্যুর আয়োজন করা অসম্ভব হবে। ফলে আয়োজকদের চাপে শেষ পর্যন্ত তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ম্যাকলেমোরের প্রতি সংহতি জানিয়ে এর প্রতিবাদে ট্যুরের অন্যান্য শিল্পী ফিনিয়াস, অ্যারন রো, বেওগা ও লুকাস গ্রাহাম সরে দাঁড়ান।
রবার্ট ক্রাফট অবশ্য ম্যাকলেমোরের আহ্বানে সরাসরি সাড়া দেননি। তবে এড শিরানের মধ্যস্থতায় ক্রাফট জানিয়েছেন, তিনি ও শিরান মিলে ২০ লাখ ডলার এ অঞ্চলে মানবিক সহায়তার জন্য দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। যদিও কোন সংস্থার মাধ্যমে এই অর্থ ব্যয় হবে, তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনো আসেনি। এদিকে এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কলিন ক্যাপারনিক অভিযোগ তুলেছেন যে, রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে এনএফএল স্টেডিয়ামের মালিকরা জোটবদ্ধ হয়ে ম্যাকলেমোরকে সরিয়ে দিয়েছেন। যদিও ক্রাফটের দাবি, ম্যাকলেমোরকে বাদ দেওয়ার পেছনে তার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি অতীতে তার করা কিছু ‘ইহুদিবিদ্বেষী মন্তব্য ও চিত্রকল্প’ বড় ভূমিকা রেখেছে। যদিও অতীতে ম্যাকলেমোর এই বিতর্কের জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছেন।
সবশেষে ম্যাকলেমোর ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় নিয়োজিত চিকিৎসক, সাংবাদিক, ত্রাণকর্মী ও প্যারামেডিকদের সাহসের প্রশংসা করেছেন এবং সংবাদমাধ্যম শিরোনাম পরিবর্তন করলেও ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগের কথা ভুলে না যাওয়ার জন্য সমর্থকদের আহ্বান জানিয়েছেন। বর্তমানে এই ঘটনাটি কেবল একজন শিল্পীর ট্যুর থেকে বাদ পড়ার বিষয় নয়, বরং সাংস্কৃতিক পরিসরে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ফিলিস্তিন ইস্যুর এক বড় বিতর্কে পরিণত হয়েছে। ম্যাকলেমোর তার এই আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে এটিই প্রমাণ করলেন যে, ট্যুরে তার অংশগ্রহণ বা পেশাগত ক্যারিয়ারের চেয়েও ফিলিস্তিনিদের মানবিক সংকট তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি আরো বলেন, আলোচনাকে আবার সেই ফিলিস্তিনিদের কাছে ফিরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন, যারা এখনো প্রাণ হারাচ্ছে, সামরিক দখলদারত্বের মধ্যে বসবাস করছে এবং নিজেদের স্বাধীনতার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার ভাষায়, মতপার্থক্য থাকলেও অন্তত একটি বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব—ফিলিস্তিনি মানুষের জীবন রক্ষার মূল্য অন্য যেকোনো মানুষের জীবনের চেয়ে কম নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে কোন সংস্থা বা দাতব্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে তখন নির্দিষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এটি ক্যাপারনিকের নিজের প্রতিবাদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে তুলনা করেন তিনি।

