২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে শুল্ক, ভ্যাট এবং কর কাঠামোতে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রস্তাবিত এই বাজেটে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জন্য সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে আমদানি শুল্ক ব্যবস্থায়।
আমদানি শুল্কে বড় পরিবর্তন
ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, সার্ভার, মনিটর এবং প্রিন্টার আমদানির ক্ষেত্রে সব ধরনের শুল্ক ও ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি তথ্যপ্রযুক্তি পণ্যের সহজলভ্যতা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, এসএসডি (SSD) আমদানির ক্ষেত্রে অন্যান্য শুল্ক বাতিল করে কেবল ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ডিজিটাল অর্থনীতি ও উদ্যোক্তাদের জন্য প্রণোদনা
- স্টার্টআপ খাতে স্থানীয় ও আমদানি পর্যায়ের সেবার ওপর থেকে ভ্যাট প্রত্যাহার করা হচ্ছে।
- মোবাইল সিম ব্যবহারে আরোপিত ৩০০ টাকার কর বাতিল করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
- ফ্রিল্যান্সার এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয় করমুক্ত করার পরিকল্পনাকে ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নের লক্ষ্যে স্টার্টআপ, নারী এবং প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের জন্য করমুক্ত টার্নওভার সীমাও বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার ক্ষেত্রে টার্নওভার ট্যাক্স শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
ফ্রিল্যান্সিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েশন খাতে বিশেষ সুবিধা
ফ্রিল্যান্সিং এবং কনটেন্ট ক্রিয়েশন থেকে অর্জিত আয় পুরোপুরি করমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের মতে, দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কাজ করে যে আয় করছেন, তা এখন ডিজিটাল অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বর্তমানে ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সেবার ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য থাকলেও, প্রস্তাবিত বাজেটে এই ভ্যাট সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা
স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০৩৫ সাল পর্যন্ত স্থানীয় পর্যায়ের ভ্যাট এবং স্থাপনা ভাড়ার ওপর আরোপিত ভ্যাট মওকুফ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা তাদের আর্থিক চাপ কমাতে সাহায্য করবে।
