দীর্ঘ ২২ বছর একাকী জীবন কাটানোর পর জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করলেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সাবেক স্ত্রী ও জনপ্রিয় প্রযোজক জেমিমা গোল্ডস্মিথ। ৫২ বছর বয়সী এই চিত্রনাট্যকার আইরিশ-অস্ট্রেলীয় ব্যবসায়ী ক্যামেরন ও’রেইলিকে বিয়ে করেছেন। ৬২ বছর বয়সী ক্যামেরন প্রয়াত আইরিশ মিডিয়া মোগল ও আন্তর্জাতিক রাগবি তারকা স্যার অ্যান্থনি ও’রেইলির সন্তান। চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র তৈরির সুবাদে পরিচয়ের পর প্রায় এক বছর তারা প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন। বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জেমিমার ভাই বেন গোল্ডস্মিথের স্ত্রী জেমিমা জোন্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিয়ের অনুষ্ঠানের ছবি পোস্ট করে তাদের নতুন জীবনের জন্য আনন্দ প্রকাশ করেছেন।
১৯৯৫ সালে ইমরান খানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন জেমিমা, তবে ২০০৪ সালে তাদের দীর্ঘ নয় বছরের দাম্পত্য জীবনের সমাপ্তি ঘটে। এই সংসারে তাদের দুই ছেলে সুলায়মান ও কাসিম খান রয়েছে। বিবাহবিচ্ছেদের অনেক বছর পেরিয়ে গেলেও পাকিস্তানের প্রতি নিজের আবেগ ও ইমরান খানের সঙ্গে তার সুসম্পর্কের জায়গাটি এখনো অটুট। বিশেষ করে বর্তমানে ইমরান খান কারাবন্দি থাকায় তার পরিস্থিতির প্রতিবাদে জেমিমা বেশ সক্রিয়। তিনি বৃটিশ সরকারের কাছে ইমরান খানের বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার আহ্বান জানিয়েছেন এবং এই পরিস্থিতিকে ‘মানবাধিকারের জরুরি অবস্থা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বিশেষত সাবেক স্বামীর স্বাস্থ্য, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং একাকী বন্দিত্ব নিয়ে তিনি তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
জেমিমা ও তার সন্তানরা এখনো বাবার বিপদের দিনে পাশে দাঁড়াতে কার্পণ্য করেন না। সম্প্রতি লর্ডসে ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের মধ্যকার টেস্ট ম্যাচ দেখতে সুলায়মান ও কাসিমকে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন জেমিমা। ওই সময় ছেলেরা বাবার মুক্তির দাবিতে প্রচারণা চালালে জেমিমা নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘#ফ্রি ইমরান খান’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে সমর্থন জানান। পাকিস্তানে বসবাসের সুবাদে দেশটির সমাজ, সংস্কৃতি ও মানুষের প্রতি তার যে গভীর ভালোবাসা জন্মেছিল, তা তিনি বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ করেছেন।
তিন বছর আগে জিও নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি পাকিস্তান নিয়ে নিজের আবেগঘন স্মৃতির কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, জামান পার্কে কাটানো দিনগুলো এবং সেখানকার মানুষ ও সৃজনশীল প্রতিভার প্রতি তার ভালো লাগা ছিল অপরিসীম। তিনি এমন একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের চ্যালেঞ্জ হাতে নিয়েছিলেন যা পাকিস্তানকে ইতিবাচকভাবে উদযাপন করে। জেমিমার ভাষ্যমতে, তিনি পশ্চিমা পর্দায় প্রচলিত পাকিস্তানের পরিবর্তে নিজের চেনা রঙিন, সুন্দর ও আনন্দময় দেশটিকে তুলে ধরতে চেয়েছেন।
পশ্চিমা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনে পাকিস্তানি বা মুসলিমদের যেভাবে উপস্থাপন করা হয়, তার ধারায় পরিবর্তন আনাই ছিল তার লক্ষ্য। এই প্রকল্পের মাধ্যমেই তিনি নিজের পরিচিত পাকিস্তানকে পটভূমি করে একটি রোমান্টিক কমেডি নির্মাণের সুযোগ পান। তার এই চলচ্চিত্রে সজল আলি, শাবানা আজমি, লিলি জেমস, এমা থম্পসন ও শাহজাদ লতিফের মতো শিল্পীরা অভিনয় করেছেন, যা তার সৃজনশীল কাজের অন্যতম মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।

