মধ্যপ্রাচ্যে অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে পরিণত হচ্ছে ইরান

ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসন কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি। উল্টো ইরান হামলা মোকাবিলায় সফল হওয়ার পাশাপাশি আক্রমণাত্মক অবস্থানে যাওয়ার সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। দেশটি নিজেদের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। অর্থনীতি ও বাণিজ্যবিষয়ক বিশ্লেষক খুররম হুসাইনের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে এখন ইরানের অপ্রতিরোধ্য উত্থান ঘটছে। গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন, তা কার্যত সমাপ্ত হয়েছে। বর্তমানে পুরো বিষয়টি হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থায় রূপ নিয়েছে।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ইরান আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। দেশটিকে অব্যাহত নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধের হুমকির মধ্যে টিকে থাকতে হয়েছে। বিশ্লেষক খুররম হুসাইন মনে করেন, বর্তমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যপূরণ না হওয়ায় সেই দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল ভেঙে ইরান এখন আঞ্চলিক পরাশক্তি হিসেবে সামনে আসছে। তার মতে, এই পরিস্থিতি অনেকটা চীনের বিশ্বমঞ্চে ফেরার মতো ঐতিহাসিক সমঝোতার ইঙ্গিত দিলেও, ইরানের ক্ষেত্রে তা অনেক বেশি সংঘাতময় ও অগোছালো হবে। কারণ, দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতার গণ্ডি পেরোতে দেশটিকে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পথ বেছে নিতে হয়েছে।

ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বর্তমানে দুটি বিপরীতমুখী ধারা সক্রিয় রয়েছে। একটি পক্ষ যুদ্ধ বন্ধ করে দেশ পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিতে চায়। অন্যদিকে, আরেকটি পক্ষ মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন বাহিনীকে চূড়ান্তভাবে বিতাড়িত করতে চায়, যা অনেকটা আফগানিস্তানে তালেবানের সাফল্যের পুনরাবৃত্তির মতো। বিশ্লেষকের মতে, মার্কিন বাহিনী পুরোপুরি সরে গেলে তেহরানের মূল লক্ষ্য হবে উপসাগরীয় অঞ্চলের ধনী রাজতান্ত্রিক দেশগুলো। যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ বাবদ তেহরান ইতোমধ্যে ২৭০ থেকে ৩০০ বিলিয়ন ডলার দাবি করেছে, যা শেষ পর্যন্ত ওই উপসাগরীয় দেশগুলোকেই পরিশোধ করতে হতে পারে। তেহরানের অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস না করা পর্যন্ত আঞ্চলিক পরাশক্তি হিসেবে ইরানের এই যাত্রা ঠেকানো প্রায় অসম্ভব।