গত ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হওয়ার পর মাঠে যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তার জেরে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসসহ বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা ও জরিমানা করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। শুক্রবার ফিফার পক্ষ থেকে এই শাস্তির ঘোষণা দেওয়া হয়।
পারেদেসের কঠোর শাস্তি ও ঘটনার বিবরণ
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে দেওয়া সবচেয়ে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হয়েছেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। তাকে ১০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ৯০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ম্যাচ শেষে পারেদেস স্পেনের এরিক গার্সিয়াকে গলা চেপে ধরেন এবং নিজের বদলি খেলোয়াড়ের বিব (bib) হাতে থাকা অবস্থাতেই স্পেনের গাভিকে মাটিতে আছড়ে ফেলেন। এই ঘটনাটি মাঠে উত্তজনা চরম পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল।
অন্যান্য খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের শাস্তি
- আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনাকে সাত ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এবং ৯০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে।
- থিয়াগো আলমাদাকে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং তাকে ৩০ হাজার ডলার জরিমানা গুনতে হবে।
- আর্জেন্টিনার কোচিং স্টাফের সদস্য রবার্তো আয়ালাকে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ও ৩০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে।
- স্পেনের গাভিকেও এই মারামারিতে জড়িত থাকার দায়ে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ও ৩০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে।
আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) ওপর জরিমানা
ফিফার শৃঙ্খলাবিধি ভঙ্গের দায়ে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (এএফএ) ৩ লাখ ২১ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে। মূলত ক্রীড়া ইভেন্টকে অক্রীড়াসুলভ প্রদর্শনী, দলের অসদাচরণ এবং সমর্থকদের বৈষম্যমূলক স্লোগান ও অঙ্গভঙ্গির জন্য এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আর্জেন্টিনাকে তাদের পরবর্তী দুটি হোম ম্যাচ ৫০ শতাংশ দর্শক নিয়ে খেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যদিও এর একটি ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখা হয়েছে।
ফকল্যান্ডস ইস্যু ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
ফিফার এই শাস্তির পেছনে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ গোলে জয়ের পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের একটি ব্যানার প্রদর্শনও ভূমিকা রেখেছে। সেখানে লেখা ছিল, “ফকল্যান্ডস আর্জেন্টিনার”। ১৯৮২ সালে দক্ষিণ-পশ্চিম আটলান্টিক মহাসাগরের এই ব্রিটিশ ভূখণ্ডে আর্জেন্টিনা আক্রমণ চালিয়েছিল। তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার এটি পুনরুদ্ধারে নৌবাহিনী পাঠান। সেই যুদ্ধে ৭৪ দিনে ৬৫৫ জন আর্জেন্টাইন ও ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা নিহত হন।
এএফএ-এর প্রতিক্রিয়া
ফিফার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে এএফএ। তারা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ফিফার এই রায়ের ভিত্তি সম্পর্কে তারা বিস্তারিত তথ্য জানতে চাইবে, যাতে আপিল কমিটির কাছে যথাযথভাবে আবেদন করা যায়। উল্লেখ্য, ফাইনাল ম্যাচের পর সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা তদন্তের জন্য ফিফা একজন শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা বিষয়ক প্রসিকিউটর নিয়োগ করেছিল।

