পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের ২০২৬ বিশ্বকাপ মিশন শুরু হলো হতাশাজনক ড্রয়ের মধ্য দিয়ে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত গ্রুপ সি-এর প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছে সেলেসাওরা। ম্যাচের ২১তম মিনিটে ইসমাইল সাইবারির গোলে এগিয়ে যায় মরক্কো।
এর মাত্র ১১ মিনিট পরই দুর্দান্ত এক গোলে ব্রাজিলকে সমতায় ফেরান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। বল পজেশন এবং শট নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্রাজিল ও মরক্কো প্রায় সমানতালে লড়েছে। ব্রাজিল ৫১ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রেখে ১৩টি শট নেয়, যার মধ্যে ৫টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে, মরক্কো ১৪টি শট নিয়ে ৩টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়।
ম্যাচের শুরু থেকেই মরক্কোর গতিময় খেলা এবং সুপরিকল্পিত আক্রমণে ব্রাজিলকে কিছুটা দিশেহারা মনে হচ্ছিল। গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্টরা যেভাবে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে, তাতে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা যেন নিজেদের ছন্দ হারিয়ে ফেলেছিল।
এই ম্যাচে ফিফার পক্ষ থেকে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ব্যক্তিগত ভুলের ছড়াছড়ি এবং নিষ্প্রভ এক ম্যাচে তিনিই যেন ব্রাজিলের খেলায় প্রাণ ফিরিয়ে এনেছিলেন। বাঁ প্রান্ত ধরে তার একক নৈপুণ্য হোক কিংবা গ্যালারির দর্শকদের উজ্জীবিত করার আহ্বান—ম্যাচের উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তগুলোর মূল কারিগর ছিলেন এই উইঙ্গারই।
জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের ৫০তম ম্যাচে মাঠে নেমে ভিনি পেয়েছেন তার দশম গোল—যা ছিল অনেকটা রিয়াল মাদ্রিদে তার খেলার স্টাইলের প্রতিচ্ছবি। প্রতিপক্ষের ডাবল মার্কিংয়ের মুখে বল পেয়েও তিনি দমে যাননি; একক দক্ষতার প্রদর্শনী দেখানোর পাশাপাশি ব্রুনো গিমারেসের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ায় বল দেওয়া-নেওয়া করে নিজেকে ওয়ান-অন-ওয়ান পজিশনে নিয়ে যান। এরপর এল আইনাউইকে অনায়াসে ড্রিবল করে কাটানোর পর ইয়াসিন বুনোর নাগাল এড়িয়ে বল জালে জড়ান তিনি।
ম্যাচ শেষে ‘জিই টিভি’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভিনিসিয়ুস বলেন, ‘আমার মনে হয় প্রথমার্ধে আমরা খুব বাজেভাবে শুরু করেছিলাম, যা পরিস্থিতি অনেক কঠিন করে তুলেছিল। গোল খেয়ে বসার পর বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচে ছন্দে ফেরা সবসময়ই কঠিন। তবে আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে এবং এগিয়ে যেতে হবে, কারণ এটি বিশ্বকাপ; এখানে কোনো ম্যাচই সহজ নয়।’
দলের উন্নতির জায়গা দেখিয়ে ভিনি আরও যোগ করেন, ‘আমাদের আরও বেশি বল দখলে রাখতে হবে, একপাশ থেকে অন্যপাশে পাস দিয়ে খেলা সচল রাখতে হবে। কারণ অনেক সময় প্রতিপক্ষ রক্ষণে মনোযোগ দেবে এবং পাল্টা আক্রমণের সুযোগ খুঁজবে। আপাতত বেশি কিছু বলার নেই, আমাদের কাজ করে যেতে হবে কারণ পরের ম্যাচটি খুব দ্রুতই আসছে।’
দ্বিতীয়ার্ধে যখন ব্রাজিল ও মরক্কো—উভয় দলই খুব একটা কার্যকর ফুটবল খেলতে পারছিল না, তখনও ব্রাজিলের সেরা সুযোগটি তৈরি হয়েছিল ভিনির পা থেকেই। তাঁর বাড়ানো পাস থেকে বল পেয়ে রাফিনিয়াকে ব্যাকপাস দিয়েছিলেন ভিনি, যেখান থেকে গোলের ভালো একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।
এমনকি রক্ষণভাগেও ভিনির পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়া। প্রথমার্ধে রাফিনিয়া এবং দ্বিতীয়ার্ধে কুনিয়ার দায়িত্ব ছিল রক্ষণাত্মক কাজে সহযোগিতা করা, তবুও ভিনিসিয়ুস একাই চারবার বল রিকভার করেছেন। মাঠে তিনি ৩টি ফাউল করেছেন এবং ২ বার ফাউলের শিকার হয়েছেন।
‘সি’ গ্রুপে ব্রাজিলের পরের ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ২০ জুন হাইতির বিপক্ষে। বাংলাদেশ সময় সকাল ৬.৩০ মিনিটে গ্রুপপর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামবে সেলেসাওরা।
