ডেভিড মিলারের ক্যারিয়ার-সেরা ১৪২ রান এবং টেম্বা বাভুমার ১০৩ রানের সুবাদে দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের শুরুতে প্রথম বলেই উইকেট হারানোর ধাক্কা সামলে উঠে ৩৬৫/৯ সংগ্রহ করে এবং ৩২ রানে জয় তুলে নেয়। ভ্যান্ডারার্সের এই জয় দিয়ে প্রোটিয়ারা সিরিজ ২-০ ব্যবধানে নিশ্চিত করেছে, যেখানে একটি ম্যাচ এখনও বাকি। অজিদের বোলারদের শুরুতে চেপে ধরার পর দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনাররা দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার দ্রুতগতির সূচনা থামিয়ে দেন।
অস্ট্রেলিয়া টস জেতার পর মিচেল মার্শ বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন, কারণ সকালের আর্দ্রতা কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন তিনি। তাদের শুরুটা ছিল স্বপ্নের মতো। জশ হ্যাজলউডের একটি শর্ট ও বাইরের ডেলিভারি এইডেন মার্করাম কভার-পয়েন্টের দিকে সজোরে মারলে কুপার কনোলি এক হাতে অসাধারণ ক্যাচ লুফে নেন। প্রথম ঘণ্টায় ডারবানের চেয়ে বেশি সুইং পাওয়ায় হ্যাজলউড ও জেভিয়ার বার্টলেট প্রোটিয়া ব্যাটারদের রীতিমতো কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন। বাভুমা শুরুতে ১০ বলে মাত্র ১ রান করলেও পরে আক্রমণের পথ বেছে নেন এবং তৃতীয় ওভারে হ্যাজলউডের বলে চার ও ছয় মেরে চাপ কমান। কুইন্টন ডি ককও দুটি ছক্কা মারলেও পরে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। ম্যাথু ব্রিৎজকে বাভুমার সঙ্গে ৫৭ রানের জুটি গড়েন, কিন্তু জ্যাক এডওয়ার্ডসের তৃতীয় বলেই তিনি আউট হয়ে যান। ৯৩ রানে তিন উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকরা যখন বড় বিপদে, তখন মিলার ও বাভুমা দলের হাল ধরেন। বাভুমা ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এবং দুজনে ১৫৬ রানের জুটি গড়ে দলকে বিশাল সংগ্রহের পথে নিয়ে যান। মিলার ৯৩ বলে ১৪২ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন যেখানে ১২টি চার ও ৯টি ছক্কা ছিল। শেষে ডুয়ান জ্যানসেনের ১৮ বলে ২৭ রান দলকে ৩৬০ পার করে দেয়।
বোলিং নৈপুণ্যে জয়
- অস্ট্রেলিয়ার রান তাড়ার শুরুটা ছিল ঝড়ো। মিচেল মার্শ ও ট্রাভিস হেড প্রথম থেকেই বোলারদের ওপর চড়াও হন। মার্শ পাঁচটি ছক্কা হাঁকান এবং ১৭তম ওভারের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া কোনো উইকেট না হারিয়েই ১৩০ রান তুলে ফেলে। তবে ডারবানের মতোই পুরনো বলে অজিরা ধীর হয়ে পড়ে।
- স্পিন বল ঘোরার উপযোগী উইকেটে দক্ষিণ আফ্রিকা ৩০ ওভার স্পিন বোলিং করায়, যা তাদের হোম ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ। বিয়র্ন ফোরটুইন প্রথম ওভারেই মার্শকে ৮৪ রানে এলবিডব্লিউ করেন। এরপর কনোলি আউট হন। মার্করামের বলে হেড দুইবার জীবন পেলেও শেষ পর্যন্ত ৮৪ রান করে এলবিডব্লিউ হন।
- স্পিনাররা এরপর অস্ট্রেলিয়ার টপ ও মিডল অর্ডার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। কেশব মহারাজ, ফোরটুইন ও মার্করাম পিচের সুবিধা নিয়ে নিখুঁত লাইন-লেন্থে বোলিং করেন। অ্যালেক্স ক্যারি এলবিডব্লিউ হন এবং ম্যাট রেনশ ৩২ রান করে মহারাজের শিকার হন। ক্যামেরন গ্রিন ১৭ রানে ফোরটুইনের বলে আউট হন।
- আট নম্বরে নেমে জেভিয়ার বার্টলেট ২৬ বলে দ্রুততম ৫০ রানের কাছাকাছি গিয়ে ৫টি ছক্কা মারেন, যা অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে যৌথভাবে দ্রুততম। কিন্তু মার্কো জ্যানসেন দুই বলে দুই উইকেট নিলে এবং লিজাড উইলিয়ামস ইয়র্কারে বার্টলেটকে ফেরালে অস্ট্রেলিয়া ৪৯.৫ ওভারে ৩৩৩ রানে অলআউট হয়ে যায়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: দক্ষিণ আফ্রিকা ৩৬৫/৯ (ডেভিড মিলার ১৪২; জ্যাক এডওয়ার্ডস ৫-৬৭) বনাম অস্ট্রেলিয়া ৩৩৩ অলআউট (মিচেল মার্শ ৮৪, ট্রাভিস হেড ৮৪; লিজাড উইলিয়ামস ৩-৫৪)। দক্ষিণ আফ্রিকা ৩২ রানে জয়ী।

