প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণের মাধ্যমে এটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য একটি সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত হবে। আজ বৃহস্পতিবার মোংলায় আয়োজিত ‘মোংলা বন্দর সুবিধা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রকল্পটির আওতায় ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন, প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শুধু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে এই উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং বন্দর প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।
তিনি জানান, মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও যশোরসহ পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বিস্তারের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। সরকার পঞ্চগড় থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ ও বন্দরের সরবরাহ ব্যবস্থা আধুনিকায়নে উদ্যোগ নিচ্ছে। এছাড়া খানজাহান আলী বিমানবন্দরের উন্নয়ন কাজকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। নির্ধারিত সময়ে এসব কাজ সম্পন্ন হলে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে এবং সারা দেশের জন্য অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।
বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোংলা বন্দর জ্বালানি, সার, খাদ্যশস্য ও শিল্পপণ্য আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। প্রকল্পটির সঠিক বাস্তবায়নে বন্দরসেবার মান উন্নত করা, পণ্য পরিবহনে ব্যয় কমানো এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব সেবা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও জাহাজের নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি। বন্দরসেবার মান কতটা উন্নত হলো, পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কতটা কমল, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান কতটা বাড়ল এবং পরিবেশ কতটা সুরক্ষিত থাকল, তার ওপরই প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সরকার কাজ করছে। বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ, নির্ভরযোগ্য অবকাঠামো ও নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বিনিয়োগে আন্তর্জাতিক অংশীজন ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, মোংলা ও এর আশপাশের শিল্পাঞ্চলে নতুন কারখানা স্থাপনের জন্য দ্রুত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিবেশ ও নিরাপত্তার মানদণ্ড অনুসরণ, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে।পাশাপাশি বিপজ্জনক কার্যক্রম ব্যবস্থাপনায় অগ্নিনিরাপত্তা, প্রশিক্ষিত জনবল ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। একইসঙ্গে উপযুক্ত বাণিজ্যিক ও পরিচালনাগত শর্তে এটিকে ফার্স্ট কলিং পোর্ট হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
একসময় খুলনা অঞ্চলে সমৃদ্ধ শিল্পাঞ্চল ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সেই হারানো শিল্পঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে চায়। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আজকের এ উদ্যোগ তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আঞ্চলিক সুষম উন্নয়নে বড় অবদান রাখবে। এছাড়া বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে চীনের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য তিনি চীন সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার কমলাপুর আইসিডি থেকে কনটেইনারবাহী ট্রেন সরাসরি মোংলা বন্দরে পৌঁছাতে পারবে, যা আমদানি-রপ্তানি সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে যোগাযোগমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া অনুষ্ঠানে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

