ম্যানচেস্টার সিটির নাটকীয় জয়: এনজো মারেস্কার নতুন যুগের সূচনা

পেপ গার্দিওলার দীর্ঘ এক দশকের বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের সমাপ্তির পর ম্যানচেস্টার সিটি নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। রবিবার এনজো মারেস্কার অধীনে প্রিমিয়ার লিগের প্রথম ম্যাচে বোর্নমাউথের বিপক্ষে ২-১ গোলের নাটকীয় জয় পেয়েছে সিটি। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে মার্ক গুয়েহি এবং জসকো গভার্দিওলের গোলে এই জয় নিশ্চিত হয়। গার্দিওলা তার দশ বছরের শাসনামলে ২০টি ট্রফি জিতেছিলেন, যার মধ্যে ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা অন্তর্ভুক্ত। ২০১৬ সালে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের জয়ে গার্দিওলার যাত্রা শুরু হয়েছিল, মারেস্কাও আশা করছেন এই জয়টি তার জন্য একই রকম সফলতার পূর্বাভাস দেবে।

ম্যাচের নাটকীয় মুহূর্ত ও কৌশল

  • প্রথমার্ধের গোল: ২৬তম মিনিটে বোর্নমাউথের মার্কাস ট্যাভার্নিয়ার গোল করে দলকে এগিয়ে দেন।
  • সমতা: ৮৪তম মিনিটে মার্ক গুয়েহি হেডের মাধ্যমে সিটির হয়ে সমতা ফেরান।
  • জয়সূচক গোল: ইনজুরি টাইমে জসকো গভার্দিওল গোল করে সিটির জয় নিশ্চিত করেন।
  • মারেস্কার কৌশল: মারেস্কা তার প্রথম একাদশে ছয়জন ডিফেন্ডারকে খেলিয়ে সবাইকে চমকে দেন।
  • হালান্ডের নতুন লুক: আর্লিং হালান্ড নতুন মৌসুমের শুরুতে তার লম্বা চুল ছেঁটে ফেলে একে “নতুন মৌসুম, নতুন লুক” বলে অভিহিত করেছেন।
  • ব্যর্থতা: ফিল ফোডেন এবং অ্যান্টোইন সেমেনিয়ো হালান্ডের সাথে কার্যকর সমন্বয় গড়তে হিমশিম খেয়েছেন।

গত সপ্তাহে কমিউনিটি শিল্ডে আর্সেনালের কাছে ৩-০ গোলে হারের পর সিটির সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। বোর্নমাউথের বিপক্ষে ম্যাচেও সিটির আক্রমণভাগে সৃজনশীলতার অভাব এবং রক্ষণভাগে সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নিতে পারায় মারেস্কা কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। সিটির বর্তমান দল পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে; রদ্রি, বার্নার্ডো সিলভা, জন স্টোনস, নাথান আকে এবং তিজানি রেইন্ডার্স ক্লাব ছেড়েছেন। নতুন সাইনিং এলিয়ট অ্যান্ডারসন দ্বিতীয়ার্ধে ইনজুরিতে পড়ে মাঠ ছাড়ার আগে খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেননি।

ক্লাব পুনর্গঠন ও দলবদল

  • নতুন লক্ষ্য: আর্সেনালের সাথে ব্যবধান কমাতে আরও নতুন খেলোয়াড় প্রয়োজন।
  • বড় চুক্তি: লিলের মরক্কান মিডফিল্ডার আইয়ুব বুয়াদিকে ৮৬ মিলিয়ন পাউন্ডে (১১৭ মিলিয়ন ডলার) দলে ভেড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে।
  • প্রত্যাশা: মারেস্কা বিশ্বাস করেন, পর্যাপ্ত সময় পেলে তিনি গার্দিওলার মতো ট্রফি জেতার ধারা বজায় রাখতে পারবেন।
  • সমর্থকদের অসন্তোষ: ম্যাচের প্রথমার্ধে সমর্থকদের মধ্যে মারেস্কার কৌশল নিয়ে কিছুটা গুঞ্জন শোনা গেছে।
  • গোলরক্ষকের ভূমিকা: বোর্নমাউথের গোলরক্ষক জর্জে পেত্রোভিচ বেশ কিছু ভালো সেভ করলেও শেষ রক্ষা করতে পারেননি।
  • রক্ষণভাগের ভুল: ইভানিলসনের ক্রস থেকে ট্যাভার্নিয়ারের গোলটি সিটির রক্ষণভাগের স্থবিরতার প্রমাণ দেয়।

এদিকে, ব্রাইটন তাদের প্রিমিয়ার লিগ অভিযান শুরু করেছে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে ৪-০ ব্যবধানের বিশাল জয় দিয়ে। অ্যামেক্স স্টেডিয়ামে ১০ জনের ভিলার বিপক্ষে ব্রাইটন শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে। ম্যাচের অষ্টম মিনিটে ভিক্টর লিন্ডেলফের আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় ব্রাইটন। এরপর জ্যাক হিনশেলউড দুই মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। গত মৌসুমে পয়েন্ট টেবিলের চতুর্থ স্থানে থাকা ভিলার জন্য এটি ছিল একটি বড় ধাক্কা। ম্যানচেস্টার সিটির জন্য মারেস্কার এই জয়টি কেবল পয়েন্ট অর্জনের জন্যই নয়, বরং দলের আত্মবিশ্বাস ফেরানোর জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এখন দেখার বিষয়, নতুন খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তি এবং মারেস্কার কৌশলগত পরিবর্তন সিটিকে আর্সেনালের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সাথে পাল্লা দিতে কতটা সাহায্য করে।