যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প খুঁজছে কানাডা, ইইউ’র সঙ্গে নতুন সম্পর্কের পথে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান তীব্র বাণিজ্য যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে অনন্য কূটনৈতিক জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে কানাডা। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, অটোয়া ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আলোচনা শুরু করেছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কানাডা আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ণ সদস্য হতে চাইছে না। সাবেক ব্রিটিশ উপনিবেশ হিসেবে কানাডার সঙ্গে ইউরোপের গভীর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দেশটির সংসদীয় গণতন্ত্র ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সাথে ইউরোপীয় কাঠামোর অনেক সাদৃশ্য রয়েছে। ভৌগোলিক কারণে সদস্যপদ না পেলেও বিশেষ সহযোগী হিসেবে যুক্ত হওয়ার উপায় খুঁজছে অটোয়া। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির প্রতিক্রিয়ায় কার্নি ইউরোপীয় নেতাদের কাছে এই প্রস্তাব দিয়েছেন।

প্রস্তাবিত জোটের মূল লক্ষ্য ও কর্মপরিকল্পনা

  • বাণিজ্য বাধা কমানো, সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে সংযোগকারী তার স্থাপন এবং কানাডার প্রাকৃতিক গ্যাস ইউরোপে সরবরাহের মতো পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের উন্নয়ন এবং কানাডীয় নাগরিকদের ইউরোপে ভিসামুক্ত ভ্রমণ ও কাজ করার অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও আলোচনায় রয়েছে।
  • চলতি সপ্তাহে ফ্রান্সের স্ট্রাসবার্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বক্তব্য রাখবেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী।
  • অটোয়াতে নতুন অফিস খোলার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট।

ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁনসহ শীর্ষ ইউরোপীয় নেতারা কানাডার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। স্টাব মন্তব্য করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হওয়ার চেয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৮তম সদস্য হওয়া কানাডার জন্য অধিক সম্মানজনক। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৮০ শতাংশ কানাডীয় নাগরিক ইউরোপের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও অর্থনীতিতে সহযোগিতা বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে দেশটির প্রধান বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতা পিয়ের পোইলিয়েভ্রে এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, কানাডা কখনো যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য কিংবা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৮তম রাষ্ট্র হবে না। এই কূটনৈতিক কৌশল কানাডার পররাষ্ট্রনীতিতে বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।