যুক্তরাষ্ট্রে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সংঘটিত ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। মার্কিন বিমান বাহিনীর একজন বিচারকের দেওয়া আদেশ অনুযায়ী, হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত খালিদ শেখ মোহাম্মদ এবং তার তিন সহযোগীর বিচার ২০২৮ সালের ৫ জুন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এই মামলার বিচার পরিচালনার দায়িত্বে থাকা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাইকেল শ্রামার গত ২৬ আগস্ট বুধবার এই নতুন সময়সূচি ঘোষণা করেন।
এর আগে প্রসিকিউটররা ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে বিচার শুরুর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে বিচারপূর্ব আইনি জটিলতা নিরসন এবং আদালতে কোন ধরনের তথ্য-প্রমাণ গ্রহণযোগ্য হবে, তা নিশ্চিত করতে বিচারক সময়সীমা আরও পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। মামলার অন্য অভিযুক্তরা হলেন ওয়ালিদ বিন আত্তাশ, আলী আব্দুল আজিজ আলী ও মুস্তফা আল-হাউসাভি। ২০০৩ সাল থেকে আটক থাকা এই চারজনের বিরুদ্ধে এখনো চূড়ান্ত রায় দেওয়া সম্ভব হয়নি।
এই দীর্ঘসূত্রতার পেছনে বেশ কিছু আইনি ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের পর গোপন কারাগারে ওয়াটারবোর্ডিংসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের মাধ্যমে যে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা আদালতে গ্রহণযোগ্য হবে কি না, তা নিয়ে বছরের পর বছর ধরে বিতর্ক চলছে। এছাড়া বেসামরিক আদালতের পরিবর্তে গুয়ান্তানামো বে-র বিশেষ সামরিক আদালতে বিচার পরিচালনার সিদ্ধান্ত মামলাটিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আদালতটির এখতিয়ার, কার্যপ্রণালি এবং প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বারবার আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, ২০২১ সালেও বিচার শুরুর একটি তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে বাতিল হয়ে যায়। হামলার প্রায় ২৭ বছর পার হতে চললেও বিচার শুরু না হওয়ায় ভুক্তভোগীদের পরিবার, মানবাধিকারকর্মী এবং আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে গভীর হতাশা বিরাজ করছে। হামলায় নিহত অনেকের স্বজনই বিচার দেখে যেতে পারেননি। নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, সব বিচারপূর্ব আইনি বিরোধ নির্ধারিত সময়ে নিষ্পত্তি করা গেলে ২০২৮ সালের ৫ জুন থেকে এই বহুল আলোচিত মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে নির্ধারিত এই তারিখে বিচার শুরু হবে কি না, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: খালিদ শেখ মোহাম্মদের বিরুদ্ধে ২০০১ সালের ৯/১১ হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০২৪ সালে আসামিদের সঙ্গে একটি সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে রাজনৈতিক বিতর্ক ও নিহতদের স্বজনদের আপত্তির পর সেই চুক্তি বাতিল করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাঁরা কিউবার গুয়ান্তানামো বে-তে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে আটক রয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওই হামলায় চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর মধ্যে দুটি বিমান নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ার এবং একটি পেন্টাগনে আঘাত হানে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অপর বিমানটি যাত্রীদের প্রতিরোধের মুখে পেনসিলভানিয়ার একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়।

