রংপুরে চার সদস্যের প্রাণহানি: দুই আসামির ডিএনএ শনাক্ত

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের তিন সদস্য নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের বিরুদ্ধে ডিএনএ পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা আলামত এবং নিহতদের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে এই দুই আসামির ডিএনএ নমুনার হুবহু মিল মিলেছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। যেভাবে ঘটেছিল চার হত্যাকাণ্ড গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুই দিন যোগাযোগ না হওয়া এবং বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ার পর স্বজনেরা বাড়িতে গিয়ে মরদেহ দেখতে পান। স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেকে নিয়ে মাছুয়াপাড়ার নির্মাণাধীন বাড়িতে বসবাস করতেন। ঘটনার রাতে তারা ইয়াবা সেবন করে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে অবস্থান করছিল। ভোরে গণপতি তাদের দেখে ফেললে একপর্যায়ে তাকে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, চার হত্যাকাণ্ডে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধর সরাসরি সম্পৃক্ততার পক্ষে এটি একটি শক্তিশালী ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও মামলার তদন্ত এগিয়ে নিতেই পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তিনি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অবসরে যান।

মামলার তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ২০ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার এই দুই আসামিকে ঢাকায় নেওয়া হয় এবং পরদিন সিআইডি কার্যালয়ে তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর আগে সিআইডির বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল থেকে ৩৫টিরও বেশি আলামত সংগ্রহ করেছিল, যা আদালতের নির্দেশনা মেনে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। নিহত গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চার সদস্যেরও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হয়েছিল।

প্রাথমিকভাবে কোতোয়ালি থানায় মামলাটি নথিভুক্ত হলেও পরবর্তীকালে তদন্তের স্বার্থে তা ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। ডিবি পরিদর্শক জিন্নাত আলীকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে, হত্যাকাণ্ডের সময় গণপতির ছেলে আয়ুশ অপরাধীদের দেখে ফেলেছিল। এছাড়া ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর কারণ হিসেবে শ্বাসরোধের বিষয়টি উঠে এসেছিল বলে জানান উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।

তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডিএনএ পরীক্ষার এই ফলাফল মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় বিশেষ ভূমিকা রাখবে। তবে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, অপরাধের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য কী এবং এই ঘটনার সাথে অন্য কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা নিয়ে এখনো তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।