রাঁচিতে সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে ভারত

এশিয়ান গেমস থেকে ফিরে এসেই সরাসরি পাঁচটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার কঠিন সূচির ধকল নিতে হয়েছে ভারতীয় দলকে। দীর্ঘ বিমান ভ্রমণের পর নিজের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ৪২ বলে বিধ্বংসী শতরান করার পরও অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার বলেছিলেন তিনি বুঝতে পারছিলেন না তিনি কোথায় আছেন। তবে এই জেট ল্যাগের প্রভাব মাঠের পারফরম্যান্সে পড়তে দেননি তিনি। রাঁচিতে আসার আগে দলের বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ ছিল, যা তাদের তরতাজা রাখতে সাহায্য করেছে। লখনউতে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৫.২ ওভার হাতে রেখেই অনায়াস জয় তুলে নিয়ে আইয়ার নিজেকে “exultant” বা অত্যন্ত উৎফুল্ল বলে বর্ণনা করেছেন।

ওয়ানডে সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের ব্যাটিং শক্তির পরিচয় দিলেও টি-টোয়েন্টির শুরুটা ছিল হতাশাজনক। ওপেনিংয়ে শাই হোপের ৫২ রান এবং মিডল অর্ডারে শেরফেন রাদারফোর্ডের অর্ধশতক ছাড়া বাকিরা ব্যর্থ হয়েছেন। অধিনায়ক শাই হোপ দলের ব্যাটিংকে “chaotic” বা বিশৃঙ্খল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। হোপ আরও জানিয়েছেন যে, অতিরিক্ত অলরাউন্ডারের অভাব এবং কম স্পিন অপশনের কারণে তারা ভারতের ওপর শুরুতে চাপ সৃষ্টি করতে পারেননি। রাঁচিতে দ্বিতীয় ম্যাচে তারা বোলিং আক্রমণে পরিবর্তন আনতে পারে, যেখানে গুড়াকেশ মোতির অন্তর্ভুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ম্যাচ সংক্রান্ত তথ্য

৯ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা ৭টায় রাঁচির জেএসসিএ ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। রাঁচিতে ভারত এখন পর্যন্ত চারটি টি-টোয়েন্টি খেলেছে, যার শেষটি ছিল ২০২৩ সালে। এখানে প্রথম ইনিংসের গড় স্কোর ১৬১ রান এবং টস জেতা বা হারার প্রভাব সমানভাবে কার্যকর। আবহাওয়া শুষ্ক থাকলেও ম্যাচ শুরুর সময় আকাশ পরিষ্কার থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। ভারতের ব্যাটিং কোচ সিতাংশু কোটাক এটিকে ভালো ব্যাটিং পিচ বলে অভিহিত করেছেন, যেখানে বড় স্কোরের সম্ভাবনা রয়েছে।

দলীয় পরিসংখ্যান ও তথ্য

  • আকিল হোসেন ২০২৪ সাল থেকে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পাওয়ারপ্লে বা ১-৬ ওভারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি (৭৪) উইকেট নেওয়া স্পিনার।
  • লখনউতে নামান ধীর প্রজ্ঞান ওঝা (২০০৯) এবং অক্ষর প্যাটেলের (২০১৫) পর ভারতের তৃতীয় স্পিনার হিসেবে টি-টোয়েন্টি অভিষেকে তিন উইকেট শিকার করেছেন।
  • অক্ষর প্যাটেলের ২০২৪ সালে পাওয়ারপ্লের মধ্যে ইকোনমি রেট ৬.৭৭, যা এই তালিকায় সুনীল নারিনের (৫.২৫) পরেই দ্বিতীয় সেরা।

ভারত তাদের বিজয়ী দল অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা বেশি রাখছে। নামান ধীরের অভিষেক সাফল্য কুলদীপ যাদব ও অক্ষর প্যাটেলের সাথে স্পিন জুটিকে আরও শক্তিশালী করেছে। অন্যদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনজুরি সমস্যা এবং দলের ভারসাম্য রক্ষার জন্য তারা তাদের একাদশে রদবদল করতে পারে। আমীর জাঙ্গু দলে থাকলেও তাদের মূল লক্ষ্য এখন বোলিংয়ে বৈচিত্র্য আনা।

স্থানীয় খেলোয়াড় ঈশান কিষাণ প্রসঙ্গে ভারতের ব্যাটিং কোচ সিতাংশু কোটাক বলেন, “ঈশান যে মাঠেই খেলুক, সেটিকে সে নিজের বাড়ির মাঠ মনে করে। বিশ্বকাপের পর থেকে সে দারুণ ফর্মে রয়েছে এবং এখন তার মধ্যে অনেক বেশি পরিপক্কতা দেখা যাচ্ছে।” ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক শাই হোপ ম্যাচ শেষে আক্ষেপ করে বলেছেন, তারা ভারতের বিপক্ষে লড়াইয়ের জন্য পর্যাপ্ত বিকল্প খুঁজে পাননি, তবে সিরিজের বাকি ম্যাচে তারা ঘুরে দাঁড়াতে বদ্ধপরিকর।

দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ: ভারতের হয়ে সঞ্জু স্যামসন, অভিষেক শর্মা, ঈশান কিষাণ, শ্রেয়স আইয়ার (অধিনায়ক), তিলক ভার্মা, শিবম দুবে, নামান ধীর, অক্ষর প্যাটেল, আরশদীপ সিং, কুলদীপ যাদব এবং মায়াঙ্ক যাদব অথবা প্রিন্স যাদব খেলবেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের একাদশে থাকতে পারেন শাই হোপ, কামিল পুরান, শিমরন হেটমায়ার, রোভম্যান পাওয়েল, শেরফেন রাদারফোর্ড, রোস্টন চেজ, রোমারিও শেফার্ড, ম্যাথু ফোর্ড, শামার স্প্রিংগার অথবা গুড়াকেশ মোতি, আকিল হোসেন এবং শামার জোসেফ।