রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত ও গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক এলাকায় ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক বিবেচনায় বরাদ্দ পাওয়া ১ হাজার ৪১৩টি প্লটের নথি যাচাই-বাছাই ও তদন্তের কাজ জোরদার করা হয়েছে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে এসব বরাদ্দের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতোমধ্যেই প্রাথমিক তদন্তের ওপর ভিত্তি করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অধীন পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ৮৭৪টি এবং ঝিলমিল এলাকার ২০০টিসহ মোট ১ হাজার ৭৪টি প্লটের যাবতীয় কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত ও তথ্য সামনে আসে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশা। সংসদ সচিবালয় সূত্রের খবর, গত ১৫ বছরে গুলশান, বনানী, উত্তরা, পূর্বাচল ও ঝিলমিল আবাসিক এলাকায় রাজনৈতিক বিবেচনায় ১ হাজার ৪১৩টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়, যার মধ্যে কেবল পূর্বাচলেই ছিল সর্বোচ্চ ৯৪৪টি। রাজউকের এসব বরাদ্দে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত কমিটি মন্ত্রণালয়ে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ওই প্রতিবেদনের আলোকেই প্রাথমিকভাবে অনিয়ম পাওয়া ১ হাজার ৭৪টি প্লট স্থগিত রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
একই বৈঠকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের আগারগাঁওয়ে নতুন সচিবালয় নির্মাণের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আলোচনা হয়। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কমিটিকে জানায়, আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে নতুন সচিবালয় নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ ও কার্যক্রম দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
পাশাপাশি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরস্থানের মূল অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং প্রাঙ্গণের অসমাপ্ত সৌন্দর্যবর্ধন কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখা হয়। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই এসব কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে রাজউক ও গণপূর্ত অধিদপ্তর। এ ছাড়া সরকারি ভবনের ছাদ ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি বড় উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়। ‘এনহ্যান্সিং ক্লিন এনার্জি অ্যাকসেস থ্রু রুফটপ সোলার পিভি ইন পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ শীর্ষক এই প্রকল্পের ডিপিপি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে, যার মাধ্যমে ৩৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ ভবনগুলোর চাহিদা মেটানোর পর জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে।
বৈঠকে গণপূর্ত অধিদপ্তর কর্তৃক ২০২৬ সালে সম্পন্ন হওয়া সংসদ ভবনকেন্দ্রিক উন্নয়ন ও পূর্তকাজের বিবরণ তুলে ধরা হয়। জাতীয় সংসদ ভবনের পরিচ্ছন্নতা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং স্থাপত্যের ভাবগাম্ভীর্য অক্ষুণ্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দেন কমিটির সভাপতি ও সদস্যরা। বৈঠকে প্রথম বৈঠকের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করা হয়। এতে কমিটির সদস্য আহম্মেদ সোহেল মনজুর, মো. লুৎফুজ্জামান বাবর, শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল, এম মঞ্জুরুল করিম রনি, মো. রুহুল আমিন ও মো. তাজউদ্দীন খানসহ মন্ত্রণালয় ও সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

