উপমহাদেশের সংগীত জগতের কিংবদন্তি শিল্পী জগজিৎ সিংয়ের অমর সৃষ্টি ও সংগীতঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় এক বিশেষ আয়োজনের সাক্ষী হলেন গজলপ্রেমীরা। রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত অ্যালিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকায় ‘গজল ইভনিং: অ্যা ট্রিবিউট টু জগজিৎ সিং’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানটি গত ১০ অক্টোবর শনিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সংগীতানুরাগীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো মিলনায়তন পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে, যা জগজিৎ সিংয়ের গানের চিরন্তন আবেদনকে নতুন করে জানান দেয়। শনিবার, ১০ অক্টোবর সন্ধ্যায় অ্যালিয়ঁস ফ্রঁসেজের ধানমন্ডি মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে গজলপ্রেমীদের উপচে পড়া উপস্থিতিতে মিলনায়তন কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। জগজিৎ সিংয়ের স্বতন্ত্র গায়কী ও তাঁর অমর গানগুলোর দীর্ঘস্থায়ী জনপ্রিয়তা স্মরণ করার পাশাপাশি উপমহাদেশের সংগীতজগতে গজলের সমৃদ্ধ ও গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যও এই আয়োজনে বিশেষভাবে ফুটে ওঠে।
গজলের কাব্যিক গভীরতা, সুরের মাধুর্য ও আবেগঘন পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শিল্পী জগজিৎ সিংয়ের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করা হয়। আয়োজনের মূল আকর্ষণ ছিলেন বিশিষ্ট গজলশিল্পী মঞ্জুরুল ইসলাম খান, যিনি জগজিৎ সিংয়ের গায়কী দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত। অনুষ্ঠানে অতিথি শিল্পী হিসেবে সংগীত পরিবেশন করেন আফসানা রুনা। পুরো আসরটি চমৎকার উপস্থাপনায় প্রাণবন্ত করে তোলেন সঞ্চালক ইন্দ্রাণী নিশি। শিল্পীদের গায়কী ও গজলের সুরের মূর্ছনা উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের দারুণভাবে মুগ্ধ করে। গজলের কাব্যিক আবেদন, সুরের মাধুর্য ও আবেগের গভীরতাকে ঘিরে সাজানো হয়েছিল পুরো সন্ধ্যার পরিবেশনা।
শিল্পী মঞ্জুরুল ইসলাম খান দীর্ঘদিন ধরে গজলের চর্চা ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে নিবেদিতপ্রাণ। তাঁর সংগীত জীবনের ভিত্তি গড়ে উঠেছে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মাধ্যমে; তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি ভারতের মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও সংগীতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। জগজিৎ সিংয়ের অনুসারী হিসেবে তিনি এই ঘরানার সংগীতকে সাধারণের কাছে পৌঁছে দিতে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন।
সংগীত পরিবেশনার বাইরেও মঞ্জুরুল ইসলাম খান অ্যালিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকায় নিয়মিত ‘সাবকন্টিনেন্টাল ক্লাসিক্যাল মিউজিক ওয়ার্কশপ’ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন। এই কর্মশালার মাধ্যমে তিনি উপমহাদেশের দুই প্রধান ধ্রুপদি সংগীতধারা—উত্তর ভারতের হিন্দুস্তানি এবং দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটকী সংগীতের ইতিহাস, তত্ত্ব ও চর্চার বিষয়ে নতুন প্রজন্মকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। এভাবে ধ্রুপদি সংগীতের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রসারে তাঁর এই নিরন্তর প্রয়াস সংগীতপ্রেমীদের কাছে প্রশংসিত হচ্ছে।

