লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চর রমনীমোহন ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা (নিবন্ধন সহকারী) আবুল বাছেরের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। তিনি সরকারি লক্ষ্যমাত্রা পূরণের অজুহাতে বাস্তবে অস্তিত্বহীন ৭৪টি শিশুর জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করেছেন। ২০২৫ সালের বিভিন্ন সময়ে এই ভুয়া নিবন্ধনগুলো সম্পন্ন করা হয়। জন্ম নিবন্ধনের ৪৫ দিনের মধ্যেই ওই শিশুদের মৃত্যু দেখানো হয়েছে, যা জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন তথ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেমে (বিডিআরআইএস) যাচাইয়ের সময় ধরা পড়ে।
ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর গত ৯ সেপ্টেম্বর জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের ডেপুটি জেনারেল (যুগ্ম সচিব) মো. লুৎফুর রহমান সংশ্লিষ্ট সাতটি দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে আবুল বাছেরের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এর অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
অভিযুক্ত আবুল বাছের বর্তমানে টুমচর ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত আছেন। গত ২৭ আগস্ট তিনি রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করেন। সেখানে তিনি স্বীকার করেন, লক্ষ্যমাত্রা পূরণের অতিরিক্ত চাপে তিনি এই ৭৪টি ভুয়া নিবন্ধন করেছেন। তিনি এই নিবন্ধনগুলো বাতিলের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, বাছেরের নিবন্ধন সহকারীর ক্ষমতা প্রত্যাহার করে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪-এর ২১(১) ও ২১(৩) ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এছাড়া, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো বিডিআরআইএস সিস্টেমের তথ্যের শুদ্ধতা নষ্ট করা এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও অসদাচরণের অভিযোগে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকরি বিধিমালা, ২০১১-এর ৩৪ বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চর রমনীমোহন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক শুভ্রজিত রায় জানান, তিনি বাছেরের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি শুনেছেন। তবে তিনি বর্তমানে অন্য ইউনিয়নে কর্মরত। অন্যদিকে, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা জানান, রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় থেকে কোনো চিঠি এখনো তাদের কাছে পৌঁছায়নি। চিঠি পেলে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই জালিয়াতির বিষয়ে বক্তব্য জানতে আবুল বাছেরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। ফলে তার পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: লক্ষ্যমাত্রা পূরণ দেখাতে কাগজে-কলমে অস্তিত্বহীন ৭৪ শিশুর জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করেছেন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চর রমনীমোহন ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা (নিবন্ধন সহকারী) আবুল বাছের। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অথচ, বাস্তবে এসব শিশুর কোনো অস্তিত্বই ছিল না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একইসঙ্গে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১৮-এর ১৯(৪) বিধি অনুযায়ী অন্য ব্যক্তিকে নিবন্ধন সহকারীর দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই, উক্ত নিবন্ধনগুলো বাতিল করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জবাব দিয়েছেন কি না, তা এখনো আমাদের জানা নেই।
