সাতক্ষীরা জেলায় কুষ্ঠরোগের সংক্রমণ নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। একসময় বিরল হিসেবে পরিচিত এই রোগটি এখন জেলার বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে ছড়িয়ে পড়ছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সাতক্ষীরা শহরের পানসির কনফারেন্স রুমে আয়োজিত ‘কুষ্ঠরোগ ও এর পরিণতি’ বিষয়ক এক ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে এই তথ্য তুলে ধরা হয়। বেসরকারি সংস্থা খ্রিষ্টান সার্ভিস সোসাইটি (সিএসএস) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জেলার কুষ্ঠরোগী শনাক্তকরণের হালনাগাদ পরিসংখ্যান উপস্থাপন করা হয়।
সিএসএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে সাতক্ষীরায় মাত্র ২ জন কুষ্ঠরোগী শনাক্ত হয়েছিল। এরপর ২০২০ সালে ১২ জন, ২০২১ সালে ২৯ জন, ২০২২ সালে ৫০ জন, ২০২৩ সালে ৪৯ জন এবং ২০২৪ সালে ৬৮ জন রোগী শনাক্ত হয়। অর্থাৎ, ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে শনাক্তের হার প্রায় ৩৪ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও ২০২৬ সালে এসে এই সংখ্যা কিছুটা কমেছে, তবুও বর্তমান পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক। ২০২৬ সালে জেলায় নতুন করে ৪১ জন কুষ্ঠরোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে কালীগঞ্জে ১৬ জন, আশাশুনিতে ১৪ জন, সাতক্ষীরা সদরে ৬ জন এবং শ্যামনগর উপজেলায় ৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া একজনের চিকিৎসা সম্পন্ন হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দেশ টিভির স্টাফ রিপোর্টার শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিএসএসের স্বাস্থ্য পরিচালক সাজ্জাদুর রহিম পান্থ। তিনি বলেন, কুষ্ঠ একটি প্রাচীন রোগ এবং এটি নিয়ে সমাজে এখনো নানা কুসংস্কার ও ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত রয়েছে। অনেকে একে অভিশাপ বা পাপের ফল মনে করেন, যার ফলে রোগীরা সময়মতো চিকিৎসা নিতে অনাগ্রহী হন। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশ থেকে কুষ্ঠরোগ নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। সিএসএস ২০১৩ সাল থেকে বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায় কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চ্যানেল-২৪ এর আমিনা বিলকিস ময়না, প্রথম আলোর ইমতিয়াজ উদ্দিন, নাগরিক টিভির কৃষ্ণ মোহন ব্যানার্জি, মানবজমিনের এসএম বিপ্লব হোসেন, পত্রদুতের মো: আসাদুজ্জামান, সমকালের কিশোর কুমার, চ্যানেল ওয়ানের নাজমুস শাহাদাত জাকির, স্বদেশ প্রতিদিনের হাবিবুর রহমান সোহাগ, টাইমস টুডের মিলন বিশ্বাস, গ্লোবাল টিভির রাহাত রাজা, খোলা কাগজের ইব্রাহিম খলিল, বার্তা ২৪ এর মৃত্যুঞ্জয় রায়, সাতক্ষীরা সকালের আলতাফ বাবু, ঢাকা পোস্টের ইব্রাহিম খলিল এবং সিএসএস প্রতিনিধি শরিফুল ইসলাম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে অনুভূতিহীন দাগ, ত্বকের অনুভূতি কমে যাওয়া, হাত-পায়ে দুর্বলতা বা স্নায়ুর সমস্যার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সময়মতো শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু করলে রোগী পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেন, অন্যথায় স্থায়ী অক্ষমতার ঝুঁকি তৈরি হয়। ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সিএসএস প্রজেক্ট অফিসার লেকুজ্জামান। বক্তারা কুষ্ঠমুক্ত সমাজ গড়তে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০২৫ সালের ৬০ জন, ২০২৬ সালে নতুন করে কুষ্ঠরোগী শনাক্ত হয়েছে ৪১ জন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে কুষ্ঠ রোগীর সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আবার কেউ কেউ মনে করেন, কুষ্ঠ তেমন কোনো রোগ নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব ভুল ধারণা ও অসচেতনতার কারণে অনেক রোগী সময়মতো চিকিৎসা নেন না।আমরা কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, সারা বাংলাদেশেই এখনো কুষ্ঠ রোগী পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কুষ্ঠমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চিকিৎসায় বিলম্ব হলে স্থায়ী অক্ষমতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

