ঘরের মাঠে চলমান সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভুটানের বিপক্ষে প্রত্যাশিত জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ। এখন স্বাগতিকদের সামনে নতুন লক্ষ্য গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় এবং শেষ ম্যাচ। আগামী ১১ নভেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। তবে লঙ্কানদের বিপক্ষে এই লড়াই যে বেশ কঠিন হবে, তা অনুমেয়। বর্তমান শ্রীলঙ্কা দলটি ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন লিগে খেলা প্রবাসী ফুটবলারদের ওপর ভিত্তি করে গঠিত। তাদের খেলোয়াড়দের শারীরিক গঠন, ক্ষিপ্রতা এবং হাই প্রেসিং ফুটবল খেলার সক্ষমতা দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দলগুলোর তুলনায় তাদের আলাদা করে রেখেছে। পুরো ৯০ মিনিট একই গতিতে দৌড়ানোর মতো সামর্থ্য রয়েছে তাদের। এছাড়া লঙ্কানদের আক্রমণভাগে ইউরোপীয় লিগে খেলা ফুটবলাররা পাওয়ার ফুটবল প্রদর্শনে সক্ষম, যা বাংলাদেশ রক্ষণভাগের জন্য বড় পরীক্ষার কারণ হতে পারে। লঙ্কানদের মাঝমাঠও বেশ শক্তিশালী। প্রায় পাঁচ বছরের দীর্ঘ বিরতির পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলতে নামছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে লঙ্কান দলটি আমূল পরিবর্তিত হয়েছে, যা স্বাগতিকদের জন্য জয়ের কাজটিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এদিকে ভুটানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে জয় পেলেও বাংলাদেশ দলের আক্রমণভাগের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দলের দীর্ঘদিনের ‘নাম্বার নাইন’ বা স্ট্রাইকার সংকট এখনো কাটেনি। এই পজিশনে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী রোনান সুলিভানের খেলার কথা থাকলেও ইনজুরির কারণে তাকে পাওয়া যায়নি। অপর প্রবাসী মাহে খান আলোচনায় থাকলেও কোচ থমাস ডুলি তাকে চূড়ান্ত দলে রাখেননি। এই ঘাটতি পূরণে ভুটান ম্যাচে কোচ ডিফেন্ডার বিশ্বনাথকে স্ট্রাইকার হিসেবে খেলালেও গোল পাননি তিনি। যদিও বদলি হিসেবে নেমে মোহাম্মদ ইব্রাহিম গোল করে দলকে জয় এনে দেন। আক্রমণভাগের মূল খেলোয়াড়ের পরিবর্তে অন্য পজিশনের খেলোয়াড়দের নামানোয় কোচ থমাস ডুলির কৌশল নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভুটান ম্যাচের পারফরম্যান্স নিয়ে তাই শ্রীলঙ্কা ম্যাচের আগে উদ্বেগের ছায়া রয়েছে।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আসন্ন ম্যাচে বাংলাদেশ দলে দেওয়ান হামজা চৌধুরী ও ওয়াহেদ আলী ফারহানের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের অন্তর্ভুক্তিতে দলের শক্তি কিছুটা বাড়লেও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের ছন্দ বজায় রাখা কতটা সম্ভব হবে, তা এখন মাঠের লড়াইয়েই দেখার বিষয়। লঙ্কান দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার বাংলাদেশের ঘরোয়া লিগে খেলার সুবাদে এদেশের খেলার ধরন সম্পর্কেও বেশ পরিচিত। সব মিলিয়ে পরিবর্তিত শ্রীলঙ্কাকে হারাতে বাংলাদেশকে কঠিন পরিশ্রম করতে হবে।

