দেশের বাজারে সুগন্ধি চালের সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মূল্যের ওপর চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে সরকার এই পণ্যটির রপ্তানি কোটা ৫০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখার সাম্প্রতিক প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগে অনুমোদন পাওয়া ২৭৮টি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দকৃত কোটা এখন অর্ধেক করা হয়েছে। এই সংশোধিত বরাদ্দ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং অনুমোদনের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বহাল থাকবে।
এর আগে দুই দফায় মোট ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে ৪৫ হাজার ২৭০ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে গত ৩০ আগস্ট পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, মাত্র ১২৯টি প্রতিষ্ঠান মিলে মোট ২ হাজার ৪১৯ মেট্রিক টন চাল রপ্তানি করেছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে মাঝারি ও ক্ষুদ্র রপ্তানিকারক—কেউই আগের অনুমোদিত পরিমাণের অর্ধেকের বেশি চাল বিদেশে পাঠাতে পারবেন না।
রপ্তানি কোটা কমানোর পাশাপাশি সরকার সুগন্ধি চাল রপ্তানির ক্ষেত্রে ১০টি বাধ্যতামূলক শর্ত আরোপ করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি কেজি সুগন্ধি চালের সর্বনিম্ন এফওবি (FOB) রপ্তানিমূল্য ১ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা। এছাড়া রপ্তানি নীতি ২০২৪–২৭-এর বিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।
রপ্তানি প্রক্রিয়া ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকার নিম্নোক্ত শর্তাবলী নির্ধারণ করেছে
- রপ্তানি নীতি ২০২৪–২৭-এর বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।
- সংশ্লিষ্ট অনুমোদন ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
- প্রতিটি চালান রপ্তানির আগে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্যের মান ও সত্যতা যাচাই করবে।
- প্রতিটি কনসাইনমেন্ট জাহাজীকরণের পর সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখায় জমা দিতে হবে।
- ভবিষ্যতে নতুন রপ্তানি অনুমোদনের আবেদনের ক্ষেত্রে আগের কোটার বিপরীতে প্রকৃত রপ্তানির পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও প্রমাণ দাখিল করতে হবে।
- কোনো অবস্থাতেই সংশোধিত অনুমোদিত পরিমাণের বেশি চাল রপ্তানি করা যাবে না।
- আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য সুরক্ষায় প্রতি কেজি সর্বনিম্ন FOB রপ্তানিমূল্য ১ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
- অনুমোদন সম্পূর্ণ অহস্তান্তরযোগ্য; সাব-কন্ট্রাক্ট বা অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রপ্তানি করা যাবে না।
- জনস্বার্থে সরকার যেকোনো সময় কারণ দর্শানো ছাড়াই এই অনুমোদন বাতিল করতে পারবে।
- রপ্তানি আয় দেশে প্রত্যাবাসনের প্রমাণ হিসেবে পিআরসি (Proceeds Realization Certificate) দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ হলেও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ ও মূল্যস্থিতি বজায় রাখাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। নতুন এই ব্যবস্থার ফলে সুগন্ধি চাল রপ্তানির ক্ষেত্রে নজরদারি ও জবাবদিহি আরও জোরদার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

