২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনাল: টিকিটের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা দেখা দিয়েছে, যার প্রভাব সরাসরি পড়েছে টিকিটের বাজারে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার এই ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের দাম এখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়া ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।

টিকিট বিক্রয় প্ল্যাটফর্ম টিকপিকের তথ্য অনুযায়ী, ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের গড় ক্রয়মূল্য দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৩২৭ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৪ লাখ টাকা। বর্তমানে এই ম্যাচের সবচেয়ে সস্তা টিকিট বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৯৪৩ ডলারে। আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার আগে এই দাম ৭ হাজার ২০০ ডলারের কাছাকাছি থাকলেও, ফাইনালিস্ট চূড়ান্ত হওয়ার পর তা কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে, সবচেয়ে ব্যয়বহুল টিকিটের মূল্য পৌঁছেছে ২৮ হাজার ৪৭৯ ডলারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৫ লাখ টাকা। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ১১৫এ সেকশনের দুটি আসনের টিকিট এই দামে বিক্রি হয়েছে, ফলে দুটি টিকিটের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ৫৬ হাজার ৯৫৮ ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ক্রীড়া ইভেন্টের তালিকায় এখন শীর্ষে রয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনাল। এর পরের অবস্থানে আছে ২০২৪ সালের সুপার বোল এলভিআইআইআই (গড় ৯,৪১১ ডলার), ২০২১ সালের সুপার বোল এলভি (৭,৩১৩ ডলার), ২০২০ সালের সুপার বোল এলআইভি (৬,৫৪৬ ডলার) এবং ২০২৬ এনবিএ ফাইনালের তৃতীয় ম্যাচ (৬,৩০৮ ডলার)। এছাড়া ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের সবচেয়ে সস্তা টিকিটের দাম প্রায় ৯০০ ডলার, যা ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে বিদায় নেওয়ার পর ৩০০ ডলার কমেছে।

সিটপিকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ফিফার ৯৬ বছরের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে ব্যয়বহুল আসর। টুর্নামেন্ট শুরুর সময় গড় টিকিটের দাম ছিল ১ হাজার ৬২২ ডলার, যা সেমিফাইনাল পর্বে ৪ হাজার ১৬২ ডলারে উন্নীত হয়। তবে পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দাম একইভাবে বাড়েনি; পর্তুগাল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ের পর স্পেন-বেলজিয়াম কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সস্তা হয়েছিল।

ফিফা ফাইনাল ম্যাচের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ৯৯০ ডলারের টিকিট নির্ধারণ করেছিল। পুনর্বিক্রয় বাজারের হিসাব বাদ দিলে সাধারণ গ্যালারির টিকিটের ক্ষেত্রে এটিই ছিল ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ নির্ধারিত মূল্য। তবে সংস্থাটির ধাপে ধাপে টিকিট ছাড়া এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত পরিবর্তনশীল মূল্যব্যবস্থার (ডায়নামিক প্রাইসিং) কারণে দাম অনেক ক্ষেত্রেই অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। সাধারণ দর্শকদের নাগালের বাইরে চলে যাওয়া এই টিকিটমূল্য নিয়ে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। সমর্থকদের এই অসন্তোষের প্রেক্ষিতে ফিফা জানিয়েছে, ২০৩০ বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রির কৌশল তারা পুনর্বিবেচনা করবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত